
সুমন শেখ, জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জনসাধারণের চলাচল সহজ করতে কুষ্টিয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সড়ক, কালভার্টসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারকাজে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বারখাদা-চারুলিয়া সড়কে নির্মাণাধীন বক্স কালভার্টের কাজও এ উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ। প্রায় ২৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন প্রকল্পটির কাজ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শুরু হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স এক পয়সা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্মাণকাজে প্রকল্পের নকশা, নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি নির্দেশনা অনুসরণ করে কাজ সম্পন্ন করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর কালভার্টটি দীর্ঘদিন টেকসইভাবে ব্যবহার উপযোগী থাকবে এবং স্থানীয় মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের প্রতিটি ধাপে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের তদারকি অব্যাহত রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।শুধু কালভার্ট নির্মাণ নয়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নেও এলজিইডির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হরিনারায়ণপুরের পদ্মনগর ব্রিজ থেকে হাওড়ের ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৭৬৭ মিটার সড়ক নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। পাশাপাশি টাকিমারা-বড়িয়া সড়ক এবং চৌড়হাস থেকে মোল্লাতেঘরিয়া এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নকাজও চলমান রয়েছে।এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে এসব সড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।নির্মাণকাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের কোনো প্রশ্ন বা অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি রয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি, প্রকল্পের নির্ধারিত নকশা ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা এবং নির্মাণসামগ্রীর মান নিশ্চিত করার মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে টেকসই করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।এ বিষয়ে বাবুল আক্তার, ঠিকাদার প্রতিনিধি, জানান, নির্ধারিত নিয়ম ও প্রকল্পের নির্দেশনা অনুসরণ করেই কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে রোশান আহম্মেদ, সদর উপজেলা প্রকৌশলী, এলজিইডি, কুষ্টিয়া, নির্মাণকাজের গুণগত মান ও কারিগরি বিষয়গুলো তদারকির গুরুত্ব তুলে ধরেন।এ বিষয়ে রাজু আহম্মেদ, নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি, কুষ্টিয়া, বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি নিয়মনীতি ও কারিগরি মানদণ্ড অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও তদারকি অব্যাহত রয়েছে।কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এলজিইডির চলমান উন্নয়নকাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে শেষ হলে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত প্রতিটি প্রকল্প টেকসই ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে নিয়মিত তদারকি, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্টদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
