
মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম- স্টাফ রিপোর্টার//তদবির নয়, টাকা নয়—শুধু মেধার জোরেই পুলিশে চাকরি পেল খুলনার ৪৪ জন তরুণ-তরুণী। ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে তাদের চূড়ান্ত নির্বাচনের ঘোষণা এসেছে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে।শিরোমণি পুলিশ লাইন্স মাঠে রাত সাড়ে ১২টায় ফলাফল প্রকাশ করেন নিয়োগ বোর্ডের প্রধান ও খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, বিপিএম-সেবা। এ সময় উপস্থিত প্রার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।এর আগে ০৬ মে বুধবার সকাল ১০টা থেকে দিনভর শিরোমণি পুলিশ লাইন্সে চলে মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই এ ধাপে অংশ নেয়। পুরো প্রক্রিয়া সিসি ক্যামেরার আওতায় ও কঠোর গোপনীয়তায় সম্পন্ন হয়।তিন সদস্যের নিয়োগ বোর্ডে সভাপতি ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সদস্য হিসেবে ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস. এম. রাজু আহমেদ এবং বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু রাসেল।ফল ঘোষণার পরপরই নবনির্বাচিত ৪৪ জনকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, এই নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা রাখা হয়েছে। একজন প্রার্থীও যাতে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য আমরা প্রতিটি খাতা, প্রতিটি ভাইভা নিজেরা যাচাই করেছি। এখানে মেধাই শেষ কথা।অকৃতকার্য প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মন খারাপের কিছু নেই। আজ হয়নি, কাল হবে। নিজেকে আরও প্রস্তুত করো। দেশের জন্য কাজ করার মানসিকতা রাখো।অনুষ্ঠানে খুলনা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিভাবকরা জানান, ঘুষ-দুর্নীতি ছাড়া পুলিশে চাকরি হয়েছে, এটা তারা বিশ্বাসই করতে পারছেন না। স্বচ্ছ নিয়োগের জন্য তারা খুলনা জেলা পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।নির্বাচিতরা আগামী সপ্তাহে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চূড়ান্ত নিয়োগপত্র পাবেন। এরপর ৬ মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরু হবে।
