খুলনা, বাংলাদেশ | ৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  খুলনায় নারীকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা
  শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানালেন দাকোপের শিক্ষক ও সংস্কৃতি কর্মী দেবব্রত সরদার
  খুলনায় যুবককে গুলি করে মোবাইল ফোন ছিনতাই
  নগরীতে ট্রেনের ধাক্কায় দুইজনের মৃত্যু
  প্রবাস আয় এক বছরে বেড়েছে ১৭.৩০ শতাংশ
  বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়
  ডুমুরিয়ার রংপুর ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার উদ্যোক্তা মিলনের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া।
  ডুমুরিয়ার রংপুর ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার উদ্যোক্তা মিলনের অকাল মৃত্যুতে এলাকায়
  খর্নিয়ায় ব্যক্তিগত জমির ওপর জোরপূর্বক ইটের সলিং নির্মাণের অভিযোগ
  ঈদগাঁওয়ে চোলাইমদসহ তিন জনকে কারাদণ্ড 

পাইকগাছায় বৃদ্ধ সাকাত দম্পতির মানবেতর জীবন যাপন যেনো ভাঙ্গা ঘরে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

[ccfic]

   নিজস্ব প্রতিনিধী:- মোঃ শফিয়ার রহমান পাইকগাছা (খুলনা)

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ২নং কপিলমুনি ইউনিয়নের সিলেমানপুর গ্রামের বাসিন্দা ৭০ বছরের বৃদ্ধ মোঃ সাকাত মোড়ল।জীবনযুদ্ধে একা লড়াই করে চলেছেন তিনি।একমাত্র অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে বর্তমানে বসবাস করছেন এক জরাজীর্ণ ভাঙ্গা ঘরে, যার একটি অংশ ভেঙে পড়েছে আর যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে বাকি অংশটুকুও।মাথার উপর ফাটা টিন, মাটির ভাঙ্গা টালি আর পলিথিনের ছাউনি, মাটির দেয়াল জরাজীর্ণ, বাঁশের অবলম্বন আর পলিথিনের বেড়ায় যেন দারিদ্র্যের এক বাস্তব চিত্র।দূর থেকে দেখে মনে হয় এটা একটি পরিত্যক্ত ভাঙ্গা ঝুপড়ি ঘর। এখানে কোন মানুষের বসবাস নেই তবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য কয়েকটি বাঁশের সাথে টুকরো টুকরো পলিথিনের কাগজ দিয়ে ঘেরা এই ভাঙ্গা ঝুপড়ি ঘরে ৭০ বছরের বৃদ্ধ সাকাত মোড়ল একমাত্র স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে নিয়ে অসহায় হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।এই অসহায় বৃদ্ধের বর্তমানে জীবন কাটছে অভাব আর কষ্টে।ছেলে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত বৃদ্ধা স্ত্রীকে নিয়ে একাই কাটছে তার দিন৷ তার নেই কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস, বয়স্ক ভাতা ছাড়া নেই আর কোন সরকারি সাহায্য কিংবা সমাজের তেমন সহযোগিতা।জায়গা জমি বলতে আছে শুধু দুই শতক জমি। তারই উপর দাঁড়িয়ে আছে ভাটা খেটে খাওয়া দুই ছেলের ঘরসহ এই বৃদ্ধ দম্পতির একখানা জীর্ণশীর্ণ ঘর।যে ঘরে বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে ঘরের চাল পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। তারপরও বৃষ্টি বা বন্যা এলেই পানিতে ভিজে কাঁদা হয়ে যায়। তখন আর ঘরে থাকতে পারে না, আশ্রয় নিতে হয় অন্যের ঘরে।আর অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, থাকার মতো একটি খাট পর্যন্ত নেই এই ঘড়টিতে, বাধ্য হয়ে মাটিতে পলিথিন বিছিয়ে শুয়ে রাত কাটান বৃদ্ধ এই দম্পতি।শীতকালে ছেঁড়া কাপড় জড়িয়ে কোনোমতে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টা করেন। শীতের তীব্রতা আর গ্রীষ্মের প্রখরতা এবং বর্ষায় বৃষ্টিতে ভিজে বাধ্য হয়েই কোন রকম দিন কাটছে তাদের।এ দিকে মানুষের সাহায্যে কোনরকম চলছে তার জীবন। তবুও তার একটি স্বপ্ন নিজের একটি ঘর থাকবে। যেখানে ঝড় আসুক, বৃষ্টি নামুক, তবু কাউকে বলতে হবে না, “একটু থাকতে দেবেন?”তার সেই স্বপ্নটুকু কবে পূরণ হবে সেই আশায় দিন কাটছে বৃদ্ধ সাকাতের”।সরেজমিনে দেখা যায়, ‘সভ্যতার এ যুগে মানুষ এমন ঘরে থাকাটা বিরল। বলতে গেলে একদম জীর্ণ-শীর্ণ অবস্থায় কয়েকটি বাঁশের সঙ্গে টুকরো টুকরো পলিথিন দিয়ে ঘেরা মরিচা ধরা বেড়ায় ঢাকা ঘড়ে থাকছেন তিনি। ঘরের ভিতরে ঢুকলেই দেখা যায় বসবাস করার অনুপযোগী। বৃষ্টি হলেই সব পানি ঘরের মেঝেতেই পড়বে। মানুষের পাড়ায় এ যেন এক অমানবিক চিত্র।এমন মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে বৃদ্ধ সাকাত মোড়ল বলেন, বয়স্ক ভাতা ছাড়া সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাই না। প্রতিবেশীরা কেউ খাবার দেন, কেউ সামান্য টাকা-পয়সা দেন, আবার বৃষ্টির সময় আশ্রয় দেয় এইভাবেই টিকে আছি। স্থানীয়দের সহযোগিতাই আমার একমাত্র ভরসা। মানুষের সাহায্যে দুমুঠো ভাত খেতে পারি, যদি কেউ সাহায্যে না করে তাহলে না খেয়েই থাকতে হয়। থাকার জায়গাটা ছাড়া আর কোন সম্বল নাই।তিনি আরও বলেন, সরকার অনেককে ঘর দিয়েছেন বলে শুনছি। একটি বাড়ি পেলে অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁই হতো। সরকারের পক্ষ থেকে অথবা সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় যদি থাকার মতো একটি ঘরের ব্যবস্থা হয় তাহলে একটি মাথা গোঁজানোর পরিবেশ হতো।স্থানীয়দের মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অসহায় অবস্থায় আছেন, কিন্তু সঠিক সহায়তার অভাবে তার জীবন ক্রমশ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বর্ষা কিংবা শীতের মৌসুমে ঘরটিতে বসবাস করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।আর বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলেই তাদের থাকার ঘরটিই তৈরি করতে পারবে। তাই সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনাও করেন স্থানীয়রা।তারা আরও বলেন, সরকারি সহায়তায় যদি একটি টিনের ঘরের ব্যবস্থা করা যায়, তবে অন্তত মাথা গোঁজার মতো একটি ঠাই হবে এই বৃদ্ধ দম্পতির। আর তার কষ্টের জীবনে ফিরতে পারে সামান্য শান্তি, আর তিনি পেতে পারেন বেঁচে থাকার একটু আশ্রয়।সচেতন মহল জানান, এমন অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন, মানবিক সংগঠন ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ, এই অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির পাশে দাঁড়ানোর জন্য। তাকে একটি নিরাপদ ঘর তৈরি করে দেওয়া গেলে, তিনি অন্তত শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন। সরকারি ও বেসরকারি সাহায্যের মাধ্যমে তার জীবনে পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল ও স্থানীয়রা। যাতে তিনি নিরাপদ মাথা গোঁজার ঠাঁই পান এবং একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন                      প্রেরক মোঃশফিয়ার হমান।পাইকগাছা খুলনা প্রতিনিধি।০১৭১২-৩৩৩১৯৫

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT