
এম আবু হেনা সাগর,ঈদগাঁও
একসময়ে বিয়ে অনুষ্ঠানে কনে পরিবহনে অন্যতম মাধ্যম ছিল পালকি। পূর্বেকার দিনে কক্সবাজারের ঈদগাঁওর পাড়া মহল্লায় জনপ্রিয় ছিল বিয়েবাড়ীর উৎসবে। এমন বাহনে চড়ায় ছিল ভাগ্যের ব্যাপার। বিয়েতে পালকির কদর ছিল ব্যাপক। গ্রামীণ আঁকা-বাঁকা মেঠো পথে কনে পালকি চড়ে শ্বশুর বাড়িতে আসা-যাওয়ার আনন্দঘন একটা দারুণ সময় ছিল। গ্রামের পথে পালকিতে করে নববধূকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য উঁকি দিয়ে মন জুড়াত পাড়া গাঁয়ের বধূ, মা-চাচি, দাদা-দাদি, নানা-নানী সহ যুবক-যুবতী ও কিশোর-কিশোরীরা।ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-পড়শীসহ আপন জনদের বিয়েতে এটি একটি সময়ে প্রাচীন ও নামকরা বিবাহের পরিবহন ছিল।পালকির বাহকদের সুমধুর কন্ঠ আর শোনা যায় না, দেখা যায় না। দেখা মেলেনা সুসজ্জিত পালকিগুলো। শিশুদের পাঠ্য বইয়ে সেই পালকি বিষয়ক গল্প, কবিতা দেওয়া হয়। সেগুলো ও অনেক আগে উধাও হয়ে যায়। পূর্বেকার সময়ের সেই স্মৃতি এখনো মনে জাগরিত করে তুলে। দিনবদল তথা আধুনিকতার ছোঁয়ায় সবকিছু হারিয়ে যেতে বসেছে বতমানে।প্রাপ্ত তথ্যে মতে, কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদের বাঁশঘাটা এলাকায় একসময়ে বিয়েবাড়ীর অন্যতম আর্কষণ ছিল পালকি ব্যবসা । সেখানে ভাড়ায় পালকি মিলতো। পালকি বাহক দেরও কমতি ছিলনা। এখন সে ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে নতুন সমাজ থেকে। সেটির পরিবর্তে ফুলে ফুলে সজ্জিত এসি যুক্ত অত্যাধুনিক পরিবহন যোগে নববধূকে শশুর বাড়ীতে নিয়ে যাচ্ছেন বর। অনেকেই আবার শখের বসে ঘোড়ার গাড়ী যোগে বিয়ে উৎসবে মেতে উঠছেন। পালকির প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে আজ কেবল রয়ে গেছে স্মৃতি। সময়ের দাপটে আজ পালকি বিলুপ্ত বললে চলে। কালের বিবর্তনে পালকি বহনের ডাক আসেনা আর।প্রবীণ মুরব্বী নুরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলম জানান, গ্রামীন জনপদে আগেকার দিনে পালকির কদর ছিল। বিয়েশাদীতে পালকি ছাড়া বৌ ঘরে আনা হতোনা তেমন। আধুনিকতার যুগে সবকিছু পাল্টে গেছে। এখন সাউন্ড বক্সে গানের তাল,মেহেদী উৎসব, মনোমুগ্ধকর ডিজাইনে ফুলে সজ্জিত গাড়ীতে করে বিয়ে হচ্ছে প্রায় প্রতিটি বাড়ীতে। আহমদ হোসন জানান, বিয়েতে পালকির দৃশ্যের মত সোনালী দিন খুঁজলেও আর হয়তো পাওয়া যাবেনা।
