খুলনা, বাংলাদেশ | ২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ঈদগাঁওয়ে চোলাইমদসহ তিন জনকে কারাদণ্ড 
  ঈদগাঁওতে ১৬ অক্টোবর থেকে শারদীয়া দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে, প্রতীমার কাজ চলমান  নিজস্ব প্রতিনিধি,ঈদগাঁও  ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনাপূর্ণ পরিবেশে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতনী সম্প্রদায়ের বৃহৎ ধর্মীয় শারদীয়া দুর্গোৎসব। ১৬ অক্টোবর থেকে সারাদেশের ন্যায় ঈদগাঁওতেও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই উৎসব। জানা যায়, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও ঈদগাঁও উপজেলার আওতাধীন পাঁচটি ইউনিয়নের সনা তনী সম্প্রদায়ের লোকজন শারদীয়া দুর্গোৎসব পালন করবেন ব্যাপক উৎসাহমুখর পরিবেশে। আর কয়টা দিন পার হতে না হতে বিভিন্ন মন্দিরে সাজসজ্জাসহ ডেকোরেশনের কার্যক্রম শুরু হবে বলেও এক সূত্রে জানায়। তবে কিছু মন্দিরে প্রতীমা তৈরী কাজ প্রায় শেষের দিকে, কিছুতেই প্রতীমা তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। এদিকে ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদের হিন্দুপাড়া, বাজারের কেন্দ্রীয় কালী মন্দির, ইসলামাবাদের হিন্দুপাড়া,হরিপুর, ঈদগাঁওর পালপাড়া, চৌধুরী পাড়া,বঙ্গিম বাজার এলাকা প্রতিবছর শারদীয়া দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সনাতনীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে নারী পুরুষ,তরুন-তরুনীরা ব্যাপক আনন্দ উল্লাসে মুখরিত হয়ে উঠে। এছাড়াও শারদীয়া দুর্গোৎসব সফল এবং স্বার্থক করতে মন্দির ভিত্তিক নানান কমিটিও গঠন করা হয়।  সূত্রে জানা যায়, এই বছর ঈদগাঁও উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে শারদীয়া দুর্গোৎসব উপলক্ষে ১৭টিতে প্রতীমা পূজা ও ১২টিতে ঘট পূজা হতে যাচ্ছে।  জালালাবাদের হিন্দুপাড়ার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক বিকাশ কান্তি দে জানান, প্রতীমা তৈরীর কাজ প্রায় শেষ। আর কিছুদিন পর ডেকোরেশনসহ সাজসজ্জার কাজ শুরু হবে।  ঈদগাঁও চৌধুরী পাড়ার পল্লী চিকিৎসক মিন্টু জানান,শারদীয়া দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রতীমা তৈরীর কাজ চলমান। তবে এখনো শুরু হয়নি সাজসজ্জাসহ সৌন্দর্য্যের কাজ।  ঈদগাঁও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাবেক মেম্বার বাবুল কান্তি দে মুঠোফোনে জানান, এবাবের দুর্গোৎসবে ঈদগাঁও উপজেলায় ১৭টি প্রতীমা পূজা, ১২টি ঘট পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ অক্টোবর থেকে এই শারদীয়া দুর্গোৎসব শুরু হতে যাচ্ছে।
  ঈদগাঁওতে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপও চুরির প্রবণতা বৃদ্ধি 
  ফার্নিচার পল্লীখ্যাত ঈদগাঁওর বাঁশঘাটা সড়কে ময়লা আবর্জনার ভাগাড় 
  ৭ বছরের আইনি লড়াই ও মানসিক যন্ত্রণা শেষে খালাস পেলেন খাদ্য পরিদর্শক ইলিয়াস
  খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিট প্রকল্পের আওতায় ‘পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত:
  পাইকগাছায় জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।
  খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ০১ ব্যাচের রজত জয়ন্তী উদযাপিত:
  ঈদগাঁওতে পাঠদান বন্ধ রেখে বেতন উত্তোলন 
  

পশুর নদীর তীব্র ভাঙনে সংকুচিত দাকোপের নদীতীর, ভিটেমাটি হারিয়ে দিশেহারা বাসিন্দারা

[ccfic]

শচীন্দ্র নাথ মন্ডল দাকোপ খুলনা প্রতিনিধি ঃ

পশুর নদীর তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে খুলনার দাকোপ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাণীশান্তা যৌনপল্লী। মোংলা সমুদ্রবন্দর প্রতিষ্ঠার পর ১৯৫৪ সালে গড়ে ওঠা সরকারি নিবন্ধিত প্রায় সাত দশকের পুরোনো এই পল্লী এখন ধীরে ধীরে নদীগর্ভে বিলীনের পথে। ইতোমধ্যে ভাঙনে বহু ঘরবাড়ি ও চলাচলের রাস্তা নদীতে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অনেক স্থাপনা।সরেজমিনে দেখা গেছে, পশুর নদীর অব্যাহত ভাঙনে পল্লীর সীমানা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। নদীতীরের বেশ কিছু ঘর কয়েক দফায় নদীগর্ভে চলে গেছে। অনেক ঘরের দেয়াল ও মেঝেতে দেখা দিয়েছে ফাটল। বসতভিটা হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা।স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, একসময় এ পল্লীতে কয়েকশ নারী বসবাস করলেও নদীভাঙন ও স্থানান্তরের কারণে বর্তমানে বাসিন্দার সংখ্যা কমে প্রায় ১৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। ভাঙনে শুধু ঘরবাড়িই নয়, তাদের জীবিকা ও নিরাপদ বসবাসের জায়গাও হুমকির মুখে পড়েছে।পল্লীর ভারপ্রাপ্ত সভানেত্রী লাভলী বেগম বলেন, ‘নদীভাঙনের কারণে ঘর সরাতে সরাতে এখন আর পেছনে যাওয়ার জায়গা নেই। নদীতে ঘর ভেঙে গেলে কিছুটা পেছনে গিয়ে আবার ঘর তুলতে হয়। এভাবে আর কতদিন টিকে থাকা সম্ভব, জানি না।’তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নদী থেকে সরাসরি ঝড় এসে ঘরবাড়িতে আঘাত করে। চারপাশে লোনা পানি থাকায় পানীয় জলের জন্য দূর থেকে নৌকায় করে পানি আনতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন দুর্ভোগ চললেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেই।পল্লীর বাসিন্দাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন—নদীভাঙনে পুরো এলাকা বিলীন হলে তাদের আশ্রয় হবে কোথায়? পুনর্বাসনের কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না থাকায় ভাঙনের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ভাঙন ঠেকানো নয়, পল্লীর বাসিন্দাদের নিরাপদ আবাসন, সুপেয় পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবিকার বিষয়টিও সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।বাণীশান্তা যৌনপল্লীতে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের যাতায়াত নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগের কথা জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বয়সে কম এমন কিছু ছেলে প্রতিদিন পল্লী এলাকায় যাতায়াত করছে। এর ফলে কিশোরদের নিরাপত্তা ও অপরাধপ্রবণতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর নজরদারি এবং বয়স যাচাইসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে প্রবেশ ঠেকানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।তবে এ বিষয়ে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, পল্লীর বাসিন্দাদের মানবিক সংকট ও নদীভাঙনের শোচনীয় অবস্থা তিনি সরেজমিনে দেখেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে নদীভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান বলেন, তিনি সম্প্রতি এখানে যোগ দিয়েছেন। খুব শিগগিরই স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে স্থানীয়দের দাবি তাৎক্ষণিকভাবে নদী ভাঙন ঠেকানোর উদ্যোগের পাশাপাশি বাণীশান্তা যৌনপল্লীর বাসিন্দাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করতে হবে? তা নাহলেনদীভাঙন অব্যাহত থাকলে ঐতিহ্যবাহী এই পল্লীর বাসিন্দারা অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT