খুলনা, বাংলাদেশ | ২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ঈদগাঁওয়ে চোলাইমদসহ তিন জনকে কারাদণ্ড 
  ঈদগাঁওতে ১৬ অক্টোবর থেকে শারদীয়া দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে, প্রতীমার কাজ চলমান  নিজস্ব প্রতিনিধি,ঈদগাঁও  ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনাপূর্ণ পরিবেশে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতনী সম্প্রদায়ের বৃহৎ ধর্মীয় শারদীয়া দুর্গোৎসব। ১৬ অক্টোবর থেকে সারাদেশের ন্যায় ঈদগাঁওতেও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই উৎসব। জানা যায়, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও ঈদগাঁও উপজেলার আওতাধীন পাঁচটি ইউনিয়নের সনা তনী সম্প্রদায়ের লোকজন শারদীয়া দুর্গোৎসব পালন করবেন ব্যাপক উৎসাহমুখর পরিবেশে। আর কয়টা দিন পার হতে না হতে বিভিন্ন মন্দিরে সাজসজ্জাসহ ডেকোরেশনের কার্যক্রম শুরু হবে বলেও এক সূত্রে জানায়। তবে কিছু মন্দিরে প্রতীমা তৈরী কাজ প্রায় শেষের দিকে, কিছুতেই প্রতীমা তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। এদিকে ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদের হিন্দুপাড়া, বাজারের কেন্দ্রীয় কালী মন্দির, ইসলামাবাদের হিন্দুপাড়া,হরিপুর, ঈদগাঁওর পালপাড়া, চৌধুরী পাড়া,বঙ্গিম বাজার এলাকা প্রতিবছর শারদীয়া দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সনাতনীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে নারী পুরুষ,তরুন-তরুনীরা ব্যাপক আনন্দ উল্লাসে মুখরিত হয়ে উঠে। এছাড়াও শারদীয়া দুর্গোৎসব সফল এবং স্বার্থক করতে মন্দির ভিত্তিক নানান কমিটিও গঠন করা হয়।  সূত্রে জানা যায়, এই বছর ঈদগাঁও উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে শারদীয়া দুর্গোৎসব উপলক্ষে ১৭টিতে প্রতীমা পূজা ও ১২টিতে ঘট পূজা হতে যাচ্ছে।  জালালাবাদের হিন্দুপাড়ার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক বিকাশ কান্তি দে জানান, প্রতীমা তৈরীর কাজ প্রায় শেষ। আর কিছুদিন পর ডেকোরেশনসহ সাজসজ্জার কাজ শুরু হবে।  ঈদগাঁও চৌধুরী পাড়ার পল্লী চিকিৎসক মিন্টু জানান,শারদীয়া দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রতীমা তৈরীর কাজ চলমান। তবে এখনো শুরু হয়নি সাজসজ্জাসহ সৌন্দর্য্যের কাজ।  ঈদগাঁও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাবেক মেম্বার বাবুল কান্তি দে মুঠোফোনে জানান, এবাবের দুর্গোৎসবে ঈদগাঁও উপজেলায় ১৭টি প্রতীমা পূজা, ১২টি ঘট পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ অক্টোবর থেকে এই শারদীয়া দুর্গোৎসব শুরু হতে যাচ্ছে।
  ঈদগাঁওতে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপও চুরির প্রবণতা বৃদ্ধি 
  ফার্নিচার পল্লীখ্যাত ঈদগাঁওর বাঁশঘাটা সড়কে ময়লা আবর্জনার ভাগাড় 
  ৭ বছরের আইনি লড়াই ও মানসিক যন্ত্রণা শেষে খালাস পেলেন খাদ্য পরিদর্শক ইলিয়াস
  খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিট প্রকল্পের আওতায় ‘পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত:
  পাইকগাছায় জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।
  খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ০১ ব্যাচের রজত জয়ন্তী উদযাপিত:
  ঈদগাঁওতে পাঠদান বন্ধ রেখে বেতন উত্তোলন 
  

হাতে এক টাকাও নেই, তবু নিরাপদে কন্যাশিশুর জন্ম—মানবিকতার দৃষ্টান্ত কয়রা হাসপাতালে

[ccfic]

কয়রা উপজেলা প্রতিনিধ বিএম আলামিন ইসলাম 

হাতে এক টাকাও নেই। পাশে শুধু বৃদ্ধা মা। গভীর রাতে জরুরি দ্বিতীয় সিজার—অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এমন সংকটের মধ্যেই অসহায় বাক্‌প্রতিবন্ধী জহরা খাতুনের জরুরি অস্ত্রোপচার করে কন্যাশিশুর জন্ম দিয়েছে কয়রা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। পরে সার্জন ফি ৭ হাজার টাকা, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয়সহ প্রায় ২০ হাজার টাকা না নিয়েই মা ও নবজাতককে বাড়ি ফেরার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।৪৫ বছর বয়সী জহরা খাতুন পাইকগাছা উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নের গড়ইখালী গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে কয়রা উপজেলার হায়াতখালী বাজারের মঠবাড়ী এলাকায় থাকতেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ মাস আগে তার স্বামী হবি গাইন তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর বৃদ্ধা মাকে নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটছিল তার। এর মধ্যে গভীর রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কয়রা হাসপাতালে নেওয়া হয়।হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, দ্রুত দ্বিতীয় সিজারিয়ান অপারেশন করতে হবে। কিন্তু অপারেশনের প্রয়োজনীয় অর্থ ছিল না পরিবারের কাছে। পাশে থাকা বৃদ্ধা মায়ের কাছেও ছিল না একটি টাকা। এমন অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। রাতেই সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। জন্ম নেয় একটি কন্যাশিশু। চিকিৎসকদের তৎপরতায় মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ ছিলেন।অপারেশনের পরও অর্থসংকট কাটেনি। সার্জন ফি বাবদ ৭ হাজার টাকাও দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই অর্থ পরিশোধ করে। পরে চিকিৎসা, ওষুধ ও অন্যান্য সেবার জন্য আরও প্রায় ১৩ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়। এ অবস্থায় অসহায় পরিবারটির বিষয়টি জানতে পারেন কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলমগীর হোসেনকে ফোন করে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন।বিষয়টি জানার পর হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোগীর কাছ থেকে আর কোনো টাকা না নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ ছাড়াই মা ও নবজাতককে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফেরার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, অর্থের অভাবে অনেক অসহায় পরিবার চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে একজন দরিদ্র মায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে তাকে নিরাপদে বাড়ি পাঠানোর উদ্যোগ মানবিকতার উদাহরণ তৈরি করেছে।“অসহায় রোগীর পাশে দাঁড়ানোই চিকিৎসাসেবার সবচেয়ে বড় মানবিক দিক। এমন সহযোগিতা অন্য প্রতিষ্ঠান ও বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে।”কয়রা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “রোগীর পরিবারের অসহায়ত্বের বিষয়টি জানার পর মানবিক কারণে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। মা ও নবজাতক সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন—এটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”অসহায় পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।তাদের ভাষ্য , অর্থের অভাবে যখন চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় সেই সংকট কেটে যায়

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT