
মামুনুর রশিদ খান
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ভোজগাতি, মনিরামপুর সদর ও কাশিমনগর ইউনিয়নের বুকচিরে অবস্থিত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বিল কাকুড়িয়ার পানি নিষ্কাশনের দাবিতে জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।রোববার কৃষকদের একটি প্রতিনিধিদল সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপিতে বিলটির পানি দ্রুত ও স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।স্থানীয় কৃষকরা জানান, বিল কাকুড়িয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শত শত কৃষকের জীবিকা ও অর্থনীতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বিলের ওপর নির্ভর করে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কৃষিজমিতে চাষাবাদ করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের ও ভেড়ি নির্মাণের ফলে বিলের স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।কৃষকদের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের পথগুলো কার্যকর না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিলের পানি বেড়ে যায়। সময়মতো পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বিলটি এখন কৃষকদের জন্য আশীর্বাদের পরিবর্তে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।স্মারকলিপি প্রদানকালে কৃষকদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভোজগাতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. শামীম হোসেন, আব্দুল মান্নান দফাদারসহ স্থানীয় কৃষকরা।এ সময় তাঁরা বিল কাকুড়িয়ার পানি নিষ্কাশনের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অপরিকল্পিত ঘের ও ভেড়ি নির্মাণের কারণে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেনের প্রতি বিশেষভাবে আবেদন জানান।কৃষকদের দাবি, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে বিলটির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে, রক্ষা পাবে কৃষিজমি এবং উপকৃত হবে বিলকেন্দ্রিক জীবিকার ওপর নির্ভরশীল অসংখ্য পরিবার।
