
ওয়াহিদ মুরাদ, বিশেষ প্রতিনিধি–পবিত্র রমজান মাস শুরু হতেই দিঘলিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে লাগামছাড়া ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। ইফতার ও সাহরির প্রধান উপকরণ লেবু, শসা, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, ডিম ও মুরগিসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। এতে স্বল্প ও মধ্য আয়ের পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার পথের বাজার ও স্থানীয় অন্যান্য বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজান শুরুর আগের তুলনায় প্রায় সব পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। ফলে নিত্যদিনের বাজার করতে গিয়ে মানুষকে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।বর্তমানে বাজারে শসা প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, কলা (হালি) ৩৬ টাকা, সিম ২০ টাকা, লাল শাক ৪০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাল ডিম (হালি) ৩৬ টাকা এবং সাদা ডিম (হালি) ৩২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি স্পষ্ট। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা, লেয়ার ২৯০ টাকা, সোনালী ২৮০ টাকা এবং প্যারিস জাতের মুরগি ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।বাজারে কথা হয় স্থানীয় ক্রেতা মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, “রমজান এলেই বাজারের সবকিছুর দাম বেড়ে যায়। আগে যে বাজার ৮০০ টাকায় করা যেত, এখন সেটাই করতে ১০০০ টাকার বেশি লাগছে। সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”আরেক ক্রেতা রুবিনা খাতুন বলেন, “ইফতারের জন্য শসা, কাঁচা মরিচ আর লেবু না কিনে উপায় নেই। কিন্তু প্রতিদিনই দাম বাড়ছে। সীমিত আয়ে এত খরচ চালানো সত্যিই কঠিন।”
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারেই দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারে দাম বাড়াতে হচ্ছে। এক সবজি বিক্রেতা বলেন, “আড়ত থেকে সবজি আনতেই আগের তুলনায় বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। পরিবহন ও শ্রমিক খরচও বেড়েছে, তাই আমাদের বিক্রয়মূল্য বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই।”তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রমজানকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করছে। বাজার তদারকি দুর্বল থাকায় তারা এই সুযোগ নিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।এ বিষয়ে এলাকাবাসীর দাবি, রমজান মাসে নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এতে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তিতে রমজান পালন করতে পারবে।
—
