
খুলনার সময়ের খবর ডেস্ক:
দশম গ্রেড দেওয়ার দাবিতে কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমিতি। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মোমিন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা ২০১১ অনুযায়ী সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কর্মকর্তার শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক (দ্বিতীয় শ্রেণি) এবং বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১৪তম গ্রেড। বিধিমালার বিধি ১৩ অনুযায়ী তাদের পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে পদোন্নতির জন্য পরবর্তী উচ্চতর পদ কোনটি হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি। তাই ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে (আগে পদটি ছিল ইউপি সচিব) ১৯৯০ সাল থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারী নিয়োগ করা হয়। ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে তাদের সমপদে বা নিম্নপদে অনেকের (যেমন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা–সাবেক ব্লক সুপারভাইজার, উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা–সাবেক তহশিলদার, গ–শ্রেণির পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার–এটিইও, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক/সহকারী শিক্ষক, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ বিভাগের ফিল্ড এসিসট্যান্ট, পুলিশের এসআই) বেতন স্কেল আপগ্রেড করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে বারবার জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো সত্ত্বেও বিভিন্ন কারণে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দশম গ্রেড দেওয়া হয়নি।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার দাবির সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় একমত পোষণ করে ২০২০ সালের ৭ জানুয়ারি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাবসহ চিঠি পাঠায়। এরপর বহুবার জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে নথি চালাচালি হয়েছে এবং বর্তমানেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নথি প্রক্রিয়াধীন আছে।অনুষ্ঠানে দশম গ্রেড ছাড়াও আরও চারটি দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো– সময়োপযোগী নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন করে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া, মন্ত্রণালয় থেকে শতভাগ বেতন–ভাতা দেওয়া, অবসরকালীন শতভাগ আনুতোষিক অথবা পারিবারিক পেনশন দেওয়া এবং স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর গঠন। এসব দাবি আদায়ে পাঁচ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সেগুলো হলো– ৪ ডিসেম্বর ৬৪ জেলায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি; ৮ ডিসেম্বর বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে একই উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি এবং ১৭ ডিসেম্বর সরাসরি উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি প্রদান। এ ছাড়া ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর ৬৪ জেলায় কর্মবিরতি ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন এবং ৭ জানুয়ারি ঢাকায় জাতীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন– সমিতির সভাপতি আলতাব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক চন্দন কুমার দাশ, দপ্তর সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক মুহাম্মদ আবুল কাশেম, অর্থ সম্পাদক মীর আব্দুল বারেক, প্রেসিডিয়াম সদস্য নজরুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য আশরাফ উদ্দিন বাবু প্রমুখ।
