
জি. এম. ফিরোজ, ডুমুরিয়া:
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও নার্সদের সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনেরা। সোমবার সকালে চিকিৎসা নিতে এসে চিকিৎসক না পাওয়া, তথ্য সংগ্রহে বাধা এবং নার্সদের আচরণ নিয়ে একাধিক অভিযোগ ওঠে। এতে হাসপাতাল চত্বরে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।সোমবার সকাল ১০টা ১২ মিনিটে ডেঙ্গু পরিস্থিতির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুরতে হয় এ প্রতিবেদককে। প্রথমে সবুজ মণ্ডলের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি আউটসোর্সিং কর্মী আলিফ হোসেনের কাছে পাঠান। পরে তৃতীয় তলায় নার্স নাজমা সুলতানার কাছে তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তথ্য দেওয়ার এখতিয়ার তাঁর নেই; কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে হবে।এদিকে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিয়েও অভিযোগ করেছেন ভর্তি রোগীরা। বিলপাটেলা গ্রামের রাজিয়া বেগম (৫০) জানান, শুক্রবার ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁর অভিযোগ, নার্সরা দিনে দু-একবার খোঁজ নিলেও চিকিৎসকের নিয়মিত উপস্থিতি ও সেবা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন।সোমবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশু আবু মুসা (৮), উলা গ্রামের আকলিমা বেগম (৫৭) এবং হাসানপুর গ্রামের সালাম সরদার (৩৪) জানান, আগের দিন রোববার থেকে তাঁদের প্রচণ্ড জ্বর। হাসপাতালে এসে চিকিৎসক না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে হাসপাতালের তথ্যহাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৪৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১২১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, দুজন রোগী হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন এবং ২১ জন বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন। এ ছাড়া সাতজন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে এসব সংখ্যার মধ্যে রেফার করা রোগীদের হিসাব কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পলাশ জানান, দুর্গাপূজার ছুটিতে কয়েকজন চিকিৎসক ছুটিতে থাকায় সোমবার রোগীর চাপ ও চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনায় কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। ছুটির কারণে একসঙ্গে রোগী আসায় ভিড় বেড়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।ডেঙ্গু বিষয়ে মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. কোহিনূর নাহার কনার সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) মো. মনিরুল জামানের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।সেবা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্নহাসপাতালে তথ্য সংগ্রহের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স নাজমা সুলতানার আচরণ নিয়েও অভিযোগ ওঠে। এক ভর্তি রোগীর সামনে তিনি চোখ রাঙিয়ে হুমকিমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন প্রতিবেদক। তবে এ বিষয়ে নার্সের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।এ ছাড়া আউটসোর্সিং কর্মী আলিফ হোসেন ও আসাদকে ঘিরেও অভিযোগ রয়েছে—তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো কঠিন বলে দাবি করেছেন কয়েকজন রোগী ও স্বজন। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।রোগী ও স্বজনদের দাবি, হাসপাতালের দীর্ঘদিনের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব বণ্টন ও সেবার মান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হোক। তাঁদের মতে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে যেন কাউকে হয়রানি বা অবহেলার শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক উপস্থিতি, রোগীদের অভিযোগ এবং তথ্য প্রদানে সমন্বয়হীনতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
