
ডুমুরিয়া নিজস্ব প্রতিনিধি:জি,এম,ফিরোজ,
ডুমুরিয়া উপজেলায় এবার শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, মোড় ও চায়ের দোকানে এখন আলোচনার প্রধান বিষয় ডেঙ্গু। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়ির আশপাশের ডোবা, খাল-বিল, নদী-নালা ও দীর্ঘদিনের কচুরিপানার জটলা মশার বংশবিস্তারের পরিবেশ তৈরি করছে। দ্রুত এসব পরিষ্কার না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত থুকড়া গ্রামের তারিক বিশ্বাসসহ ডুমুরিয়া উপজেলা সাবেক বিএনপির আহবায়ক কিছু দিন আগে শেখ সরোয়ার হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান। আক্রান্তদের ভাষ্য, বাড়ির আশপাশ কচুরিপানায় এমনভাবে ঢেকে গেছে যে মশার বিস্তার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, এখনই কচুরিপানা অপসারণ ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, শুধু বাড়ির ভেতর নয়—বাড়ির পাশের ডোবা, খাল, বিল ও জলাশয়ের স্থির পানিতেও মশার প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে কচুরিপানার বিস্তারে গ্রামের সাধারণ মৎস্যজীবীরাও মাছ ধরতে পারছেন না। ফলে একদিকে জীবিকা সংকট, অন্যদিকে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি—দুই দিক থেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।রঘুনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা এ কে এম জাফর ইকবাল বলেন, বাড়ির আশপাশে বিভিন্ন পাত্র, ময়লা-আবর্জনা ও জমে থাকা পানির পাশাপাশি খাল-বিলের কচুরিপানাও মশার বিস্তার বাড়াতে পারে। তাই কচুরিপানা অপসারণ ও সরকারি উদ্যোগে জলাশয়গুলো পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।হাসপাতালে ১২ ডেঙ্গু রোগী ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ রিফাত রহমান বলেন, কর্মরত থাকাকালে এ সময়ের মতো এত নতুন ডেঙ্গু রোগী আগে দেখেননি। সোমবার সকাল থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। রাত ৮টার পর নতুন করে আরও রোগী ভর্তি হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে পূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।তিনি ডুমুরিয়াবাসীর উদ্দেশে বলেন, “সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখুন।”
জমে থাকা পানিতে বাড়ে মশার প্রজনন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, বাগেরহাটের সহকারী পরিচালক ও ডিস্ট্রিক্ট কনসালটেন্ট বি এম দীন মোহাম্মদ খোকা বলেন, গ্রামের বাড়ির আশপাশে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা, থালা-বাসন, নারকেলের খোলা ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার হতে পারে। অনেক বাড়ির পাশের পুকুর, ডোবা, খাল-বিল ও জলাশয়ে দীর্ঘদিন কচুরিপানা জমে থাকায় মশার আধিপত্যও বাড়ছে।
তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন স্থির থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেখানে মশার প্রজনন ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে। তবে নদীতে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা থাকলে পানি স্থির না থাকায় মশার বংশবিস্তার তুলনামূলকভাবে কম হয়।”ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, পরিত্যক্ত পাত্র ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা এবং দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানি অপসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের দাবি, বাড়ির পাশাপাশি খাল-বিল ও জলাশয়ের কচুরিপানা অপসারণেও দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।
