
যশোর, প্রতিনিধি:যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের দেয়াপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাডেমিক অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বে অবহেলা, শিক্ষক নিয়োগে আর্থিক লেনদেন, প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রি ও স্বজনপ্রীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহিদুল ইসলামকে ঘিরে একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কচুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মশিয়ার রহমান, আফসার আলী, আসাদুজ্জামান, ডাক্তার মশিয়ার রহমান, আব্দুল মজিদ, রনি ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষকের একাডেমিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ধারাবাহিক অবনতি ঘটছে। পাশাপাশি তিনি নিয়মিত ও সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।এছাড়া মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিদ্যালয়ে ১২ জন অদক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রধান শিক্ষক নিজের সন্তানকে বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী পদে চাকরি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা। তাদের দাবি, ওই অফিস সহকারী বিদ্যালয়ের নথিতে কর্মরত ও নিয়মিত বেতন গ্রহণ করলেও বাস্তবে অন্য একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের পর পুরোনো টিনশেড ভবনের মালামাল বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। একইভাবে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন গাছ বিক্রি করে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং ওই অর্থের একটি অংশ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়।এছাড়া প্রধান শিক্ষকের আপন বড় ভাই বিদ্যালয়ের সভাপতি থাকাকালে বিদ্যালয় বন্ধ থাকার দিনে প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের শিশুগাছ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলেও মানববন্ধন থেকে অভিযোগ করা হয়। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান বক্তারা।অন্যদিকে, সম্প্রতি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহিদুল ইসলামকে ঘিরে একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দাবি করে শিক্ষকটির বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।বক্তারা বলেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও অবনতি হতে পারে। এ কারণে শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষকদের উপস্থিতি, পরীক্ষার ফলাফল, প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়, গাছ ও পুরোনো ভবনের মালামাল বিক্রির হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট চাকরির নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি জানান তারা।এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাজান আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, একটি মহল তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ করছে। অভিযোগগুলোর কোনোটি সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।সহকারী শিক্ষক মহিদুল ইসলামকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া আপত্তিকর ভিডিও প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক বলেন, বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এ ঘটনায় শিক্ষক মহিদুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে এবং পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তাকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
