
ডেস্ক :
মায়ের বুকের উষ্ণতা, আদর আর ভালোবাসায় বেড়ে ওঠার কথা ছিল মাত্র দুই মাস বয়সী শিশু জুনায়েদের। কিন্তু পৃথিবীতে আসার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নির্মম পরিণতির শিকার হতে হলো তাকে। ফেনীর ফুলগাজীতে পিতার আছাড়ে শিশুপুত্র জুনায়েদের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে ফুলগাজী উপজেলার একটি ভাড়া বাসায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটির পিতা সুলতান কান্নারত জুনায়েদকে শান্ত করার পরিবর্তে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে আছাড় মারেন। এতে গুরুতর আহত হয় শিশুটি। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।নিহত শিশুর মা রুনা আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদকের প্রভাবে তিনি প্রায়ই অস্বাভাবিক আচরণ করতেন এবং এর আগেও শিশুটির ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন। ঘটনার দিনও কান্না থামাতে না পেরে শিশুটির ওপর নির্মম আচরণ করেন, যার পরিণতিতে মৃত্যু ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুলতানের বাড়ি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ডাকঘর এলাকায় এবং রুনা আক্তারের বাড়ি একই উপজেলার বাহাড়তলা এলাকায়। কয়েক বছর আগে তারা জীবিকার সন্ধানে ফেনীর ফুলগাজীতে এসে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা। সুলতান বিভিন্ন স্থানে দিনমজুর ও শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।ঘটনার পর স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে হাসপাতাল ও আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। মাত্র দুই মাস বয়সী একটি শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রাও। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।সচেতন মহলের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, বরং সমাজে মাদকের ভয়াবহ প্রভাবের একটি নির্মম উদাহরণ। মাদকাসক্তি একজন মানুষের বিবেক ও মানবিকতা ধ্বংস করে দেয়, যার ভয়াবহ পরিণতি অনেক সময় নিরীহ পরিবারের সদস্যদের ওপর এসে পড়ে।নিষ্পাপ শিশু জুনায়েদের মৃত্যু সমাজের কাছে এক কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে—একটি শিশুর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় তার পরিবার হওয়ার কথা, কিন্তু সেখানে যদি সে নিরাপত্তা না পায়, তবে তার সুরক্ষা নিশ্চিত করবে কে?স্থানীয়রা মনে করেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি পারিবারিক সহিংসতা ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে প্রশাসন, সমাজ এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা ঘাতক পিতার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে এমন নির্মম মৃত্যুর শিকার হতে না
