
নিজস্ব প্রতিবেদক:তীব্র তাপদাহে কার্যত পুড়ছে খুলনা অঞ্চল। দিনের পর দিন বাড়তে থাকা তাপমাত্রা, ভ্যাপসা গরম, ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট আর যাতায়াতের দুর্ভোগ—সব মিলিয়ে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিন আনা দিন খাওয়া শ্রমজীবীরা। আয় কমে যাওয়ায় তাদের সংসারে নেমেছে চাপ। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে, ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খুলনায় তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি। এছাড়া মোংলায় ৩৭.৪, চুয়াডাঙ্গায় ৩৭.৩, সাতক্ষীরায় ৩৭, কুমারখালীতে ৩৭ এবং কয়রায় ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করে। আবহাওয়াবিদদের মতে, চলমান তাপদাহের কারণে বাস্তবে অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি।জীবিকার তাগিদে সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে খুলনা শহরে এসে রিকশা চালান রহমান। তীব্র গরমে কাজের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এত গরম আগে খুব একটা টের পাইনি। আট-দশ বছর ধরে রিকশা চালাই, কিন্তু এবারের মতো কষ্ট আর হয়নি। রোদে দাঁড়িয়ে থাকাই দায় হয়ে যাচ্ছে। যাত্রী নামিয়ে কিছুক্ষণ ছায়ায় বসে থাকতে হয়। এতে করে আগের মতো আয় হচ্ছে না।’তিনি আরও বলেন, ‘আগে বিকেল-সন্ধ্যায় মানুষ বেশি বের হতো। এখন সন্ধ্যা নামলেই দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এতে আমাদের আয় কমে গেছে। এইভাবে চললে শহরে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। শরীর ঠিক রাখলে আয় হয় না, আর আয় করতে গেলে শরীর সয় না।’নর্দান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তমা, পিয়াল ও জেবা বলেন, অনিয়মিত ক্লাস সূচির কারণে তাদের প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ‘কখনো সকাল, কখনো দুপুর বা বিকেলে ক্লাস থাকে। এই গরমে ভ্যানে চলাচল করা খুব কষ্টকর। তার ওপর আমাদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো পরিবহন নেই। বাধ্য হয়েই এই কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে,’ বলেন তারা।নগরীর বয়রা এলাকার গৃহকর্মী রাবেয়া বেগম বলেন, ‘এই গরমে কাজ করাই কঠিন হয়ে গেছে। মনে হয় সব রোদ একসঙ্গে পড়ছে। ঘরের ভেতরেও স্বস্তি নেই। দিনে বহুবার বিদ্যুৎ চলে যায়, রাতে ঘুমও হয় না। শরীর সব সময় ক্লান্ত লাগে, অল্পতেই হাঁপিয়ে উঠি।’শিববাড়ি মোড় এলাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মী মো. মাহাফুজ বলেন, ‘দুপুরের মধ্যেই কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে গেছে। বিদ্যুৎ থাকলে কিছুটা স্বস্তি থাকে, কিন্তু চলে গেলে অফিসের ভেতরটা অসহনীয় হয়ে ওঠে। বারবার গরম-ঠান্ডা পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ লাগছে।’খুলনা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান বলেন, তাপদাহের প্রভাবে গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে এবং শুক্রবারও এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আগামী ২৫ বা ২৬ এপ্রিলের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাপমাত্রা কিছুটা কমাতে পারে।
