
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে রাজনৈতিক অঙ্গন কিছুটা শান্ত হলেও খুলনার তেরখাদা উপজেলায় এরই মধ্যে জমে উঠতে শুরু করেছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা। তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের সরব উপস্থিতিতে পুরো উপজেলায় বইছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। ঈদ, বসন্তী পূজা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা বাড়াচ্ছেন জনসংযোগ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়, উঠান বৈঠক এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন তারা। ফলে উপজেলা সদর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল—সবখানেই এখন নির্বাচনী আলোচনা।স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের উপজেলা নির্বাচন কেবল প্রার্থী নির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং এটি তেরখাদার রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণের একটি বড় পরীক্ষা হয়ে উঠছে। আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত থাকায় মূল প্রতিযোগিতা গড়ে উঠছে বিএনপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে।ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী উপজেলা পরিষদের তিনটি পদেই প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। চেয়ারম্যান পদে দলটির মনোনয়ন পেয়েছেন অধ্যাপক স. ম. এনামুল হক। ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করা হয়েছে সজ্জাদুর রহমান রাসেলকে এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেয়েছেন মোছা. জামিলা খাতুন। আগাম প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে মাঠে সংগঠিতভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে দলটি।অন্যদিকে বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও একাধিক সম্ভাব্য নেতা ইতোমধ্যে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ রবিউল হোসেন, সাবেক সদস্য সচিব এফ. এম. হাবিবুর রহমান, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ ইকরাম হোসেন জমাদ্দার এবং লন্ডন প্রবাসী সাবেক ছাত্রদল নেতা আরিফ বিল্লাহ।
ভাইস চেয়ারম্যান পদেও একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী সক্রিয় রয়েছেন। এদের মধ্যে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র নেতা চৌধুরী আমিনুল ইসলাম মিলু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন বাবু এবং ছাত্রদল নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন উল্লেখযোগ্য। তবে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রার্থী সামনে আসেনি।
নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচারণায় পিছিয়ে নেই। বিভিন্ন স্থানে ব্যানার-পোস্টার টানানো, গণসংযোগ চালানো এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতির মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন তারা। এতে করে তেরখাদার রাজনৈতিক পরিবেশ দিন দিন আরও উষ্ণ হয়ে উঠছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাট-বাজার, চায়ের দোকানসহ সর্বত্র এখন সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। কে এগিয়ে, কার জনপ্রিয়তা কতটুকু—এসব নিয়েই চলছে হিসাব-নিকাশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের উপজেলা নির্বাচন তেরখাদায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তাই তফসিল ঘোষণার আগেই প্রার্থীরা মাঠ গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে তেরখাদা উপজেলা এখন আগাম নির্বাচনী উত্তাপে পরিণত হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গনে।
