
সোহেল রানা,স্টাফ রিপোর্টর :
১৪ ফেব্রুয়ারি ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’ বা Valentine’s Day বিশ্বজুড়ে প্রেম, মমতা ও মানবিক বন্ধনের এক অনন্য দিন হিসেবে পালিত হয়। প্রেমিক-প্রেমিকা, স্বামী-স্ত্রী, মা-সন্তান, বন্ধু-সহকর্মী—বিভিন্ন সম্পর্কের মানুষ এ দিনে একে অন্যকে ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা জানায়। ফুল, কার্ড, চকলেট ও নানা উপহার বিনিময়ের মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে আনন্দঘন। পার্ক, রেস্তোরাঁ ও বিনোদনকেন্দ্রগুলো থাকে পরিপূর্ণ।
উৎপত্তির ইতিহাস ❤️
ভালোবাসা দিবসের উৎপত্তি নিয়ে রয়েছে নানা মত। প্রাচীন রোমে ১৪ ফেব্রুয়ারি ছিল রোমান দেবী জুনোর সম্মানে ছুটির দিন। জুনোকে নারী ও প্রেমের দেবী হিসেবে মানা হতো। অনেকে মনে করেন, সেখান থেকেই দিনটির সূচনা।
আরেকটি প্রচলিত কাহিনি জড়িয়ে আছে রোমান সম্রাট Claudius II-এর সঙ্গে। ধারণা করা হয়, তিনি যুদ্ধের স্বার্থে যুবকদের বিয়ে নিষিদ্ধ করেছিলেন। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন এক সাহসী খ্রিস্টান পুরোহিত—Saint Valentine। গোপনে তরুণদের বিয়ে পড়ানোয় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২৬৯ বা ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মৃত্যুর আগে এক কারারক্ষীর কন্যার উদ্দেশ্যে লেখা চিরকুটে তিনি স্বাক্ষর করেছিলেন—“From your Valentine”। সেখান থেকেই প্রিয়জনকে বার্তা পাঠানোর ঐতিহ্যের সূচনা বলে মনে করা হয়।
৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে পোপ Pope Gelasius I ১৪ ফেব্রুয়ারিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভ্যালেন্টাইনস ডে ঘোষণা করেন।
এছাড়া আরেকটি মত বলছে, মধ্যযুগে ইউরোপে বিশ্বাস করা হতো—ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে পাখিরা জুটি বাঁধে। সেই বিশ্বাস থেকেই মানুষও এ সময় সঙ্গী নির্বাচন ও ভালোবাসা প্রকাশের রীতি চালু করে।
বিশ্বজুড়ে উদযাপন ❤️
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভালোবাসা দিবস পাশ্চাত্য সমাজের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে United States ও United Kingdom-এ দিনটি ব্যাপক উৎসাহে উদযাপিত হয়। প্রতিবছর কোটি কোটি ডলারের ফুল, কার্ড ও উপহার বিক্রি হয়। যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক তিন কোটিরও বেশি শুভেচ্ছা কার্ড আদান-প্রদান হয় এ দিনে। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমও এ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করে থাকে।
বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবস ❤️
বাংলাদেশে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ভালোবাসা দিবস পালন শুরু হয়। প্রথমদিকে রাজধানীকেন্দ্রিক আয়োজন হলেও ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে আয়োজিত প্রথমদিকের অনুষ্ঠান গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। শুরুতে সমালোচনা থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দিনটি তরুণ সমাজের অন্যতম জনপ্রিয় উৎসবে পরিণত হয়।
বর্তমানে দেশের শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই ভালোবাসা দিবস উদযাপিত হচ্ছে নানা আয়োজনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো দিনটিকে ঘিরে বিশেষ প্রচারণা চালায়। তবে শুধুই প্রেমিক-প্রেমিকার মাঝে সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবার, বন্ধু, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সব সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশের দিন হিসেবেও এর গুরুত্ব বাড়ছে।
ভালোবাসার বার্তা ❤️
বর্তমান বিশ্বে যখন হিংসা, বিভাজন ও সংকীর্ণতা বাড়ছে, তখন ভালোবাসার বার্তাই হতে পারে মানবতার মুক্তির পথ। শত্রুর মন জয় করতে পারে সহমর্মিতা ও মমতা। কেউ পাথর ছুঁড়লে পাল্টা ফুল ছুঁড়ে দেওয়ার মানসিকতাই গড়ে তুলতে পারে এক সুন্দর পৃথিবী।
ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক ঘরে ঘরে, দেশে দেশে।
শুভ হোক বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। 💖
