খুলনা, বাংলাদেশ | ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ডুমুরিয়ায় সরকারি রাস্তা দখল করে ভাড়াটিয়া দোকানদারদের পসরা: চরম ভোগান্তিতে চালক ও সাধারণ মানুষ
  তেরখাদায় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে এমপি হেলাল, আবনালী বিলে পোনা অবমুক্ত
  খুলনায় ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ আরেকটি ‘অনিবার্য বিপ্লবের’ প্রস্তুতি নিন —–ডা. শফিকুর রহমান
  আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের পাশে সরকার, ডুমুরিয়ায় জিআর চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ
  যশোরের কেশবপুর-বেতগ্রাম সড়কের বেহাল দশা, দ্রুত সংস্কারের জোর দাবী
  কেশবপুর থানা প্রেসক্লাবের মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
  কক্সবাজার স্টুডেন্ট ফোরাম, রাজশাহীর নতুন কমিটি অনুমোদন
  জালালাবাদে ক্ষুদে ফুটবলার নয়ন ঢাকা ফুটবল লীগে সুযোগ পেল
  গৃহপরিচারিকা নির্যাতন মামলায় গ্রেফতার পুলিশ দম্পতি, জামিন চেয়ে আবেদন.
  ধ্বংসের কিনারায় কয়রা যুবসমাজ গিলে খাচ্ছে মাদক-জুয়ার বিষাক্ত সিন্ডিকেট

ওসি জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে কয়রার আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি

[ccfic]

তারিক লিটু (কয়রা) খুলনাঃ সুন্দরবন উপকূলঘেঁষা খুলনার কয়রা উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কয়রা থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর যোগদানের পর থেকে অপরাধ দমনে পুলিশি তৎপরতা বেড়েছে এবং সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের নানা ধরনের অপরাধ ও অস্থিরতায় ক্লান্ত মানুষ এখন কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছেন।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওসি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর দায়িত্ব নেওয়ার পর চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক কারবার, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত পুলিশি টহল, দ্রুত অভিযান এবং অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আগের তুলনায় কমে এসেছে বলে দাবি করছেন এলাকাবাসী।একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় মব ভায়োলেন্স ও অস্থিরতার ঘটনাও জিরোতে চলে আসছে । আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানার পক্ষ থেকে নিরলসভাবে কাজ করা হচ্ছে। পুলিশের এমন সক্রিয় ভূমিকার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে থানাকে ঘিরে দালালচক্রের অভিযোগ ছিল। সাধারণ মানুষ অভিযোগ করতেন, দালালদের মাধ্যমে না গেলে অনেক সময় থানায় কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ত। তবে বর্তমান ওসির কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। থানাকে দালাল ও তদবিরমুক্ত করতে তিনি সাহসী ভূমিকা নিয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এতে সাধারণ মানুষ এখন সহজেই থানায় গিয়ে নিজেদের সমস্যা তুলে ধরতে পারছেন।কয়রা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অতীতে যে ধরনের দ্বন্দ্ব ও বিরোধ দেখা যেত, সেসব ক্ষেত্রেও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দুই পক্ষকে থানায় ডেকে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসা করা হয়েছে। ফলে সামাজিক অস্থিরতা কমে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।কয়রা সদর ইউনিয়নের গোবরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হেলাল উদ্দীন বলেন, “বর্তমান ওসি যোগদানের পর থেকেই এলাকার আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নে পুলিশের টহল ও তৎপরতা বেড়েছে। আগে যেসব অপরাধের খবর প্রায়ই শোনা যেত, এখন তা অনেক কমে গেছে। বিপদে পড়লে মানুষ পুলিশের সহযোগিতা পাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়িয়েছে।”কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা হাফিজ উদ্দীন বলেন, “বর্তমান অফিসার ইনচার্জের উদ্যোগে থানায় মামলার জট কমেছে। তদন্ত ছাড়া মামলা রেকর্ড না করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামগুলোয় পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের কারণে আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।”স্থানীয়দের মতে, অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর অবস্থান ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে অনেক অপরাধপ্রবণ ব্যক্তি আগের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। এতে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে।এ বিষয়ে কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, “মানুষকে নিজের মনে করলে এবং তাদের সমস্যাকে নিজের সমস্যা হিসেবে অনুভব করলে সঠিক সেবা দেওয়া সম্ভব। আমি চেষ্টা করি সাধারণ মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে।”তিনি আরও বলেন, “জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। কয়রা থানাকে সব ধরনের অপরাধমুক্ত এবং একটি আদর্শ থানা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছি। এ ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।”ওসি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, “জনগণের সেবাই পুলিশের মূল দায়িত্ব। কোনো মানুষ বিপদে পড়লে বা হয়রানির শিকার হলে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। উপজেলার সকল শ্রেণি–পেশার মানুষের জন্য আমার দরজা সব সময় খোলা।”উপকূলীয় এই জনপদের মানুষের প্রত্যাশা, পুলিশের এই তৎপরতা অব্যাহত থাকলে কয়রা উপজেলায় আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ স্থায়ী রূপ পাবে।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT