
পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি
কেশবপুরে ডায়রিয়া প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহে এ রোগে আক্রান্ত ১১১ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। বুধবার ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন ২৬ জন। প্রতি দিনই রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি হওয়ায় স্যালাইন সংকট হতে পারে বলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা আশংকা করছেন। বুধবার (০৬ মে-২৬) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জানা যায়, ২৪ ঘণ্টায় ২৬ জন ডায়রিয়া রোগি ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের সংখ্যাই বেশি। উপজেলার কাঁস্তা গ্রামের নাফিজ (২৫), কলাগাছি গ্রামের ফিরোজা খাতুন (৫০), মূলগ্রামের মফিজুর রহমান (৩৫), মোবারেক গাজী (৬৫), হাবাসপোল গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (৩০), ব্রহ্মকাটি গ্রামের মোমেনা খাতুন (৬০) ও পার্শ্ববর্তী মণিরামপুর উপজেলার খাজুরা গ্রামের সালেহা খাতুন (৫০), দূর্বাডাঙ্গা গ্রামের আয়শা খাতুন (৭) ও মনোহরপুর গ্রামের রাকিব হাসান ( ৫ মাস)-সহ ২৬ জন ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হওয়ায় অধিকাংশ সময় রোগিদের বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ বলছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ডায়রিয়া রোগি বেশি ভর্তি হচ্ছে। এভাবে যদি রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে তাহলে ডায়রিয়া রোগের স্যালাইন সংকটের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রেহেনেওয়াজ বলেন, হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ২৬ জন। গত এক সপ্তাহে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন ১১১ জন | রোগির সংখ্যা আরো বৃদ্ধি হলে হাসপাতালে স্যালাইন সংকট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।বুধবার (০৬ মে) সকাল ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলী-এর সভাপতিত্বে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। যশোর-খুলনা-সাতক্ষীরার মধ্যবর্তী স্থানে এ হাসপাতাল হওয়ায় ৩ জেলার রোগিরা এখানে চিকিৎসা নিয়ে থাকে। যে কারণে অন্যান্য রোগির সাথে ডায়রিয়া রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তিন উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় হাসপতালটিতে উপচে পড়া ভীড়ে রোগিদের যেমন সমস্যা হয় তেমন ডাক্তারদেরও সেবা প্রদান করতে সমস্যা হয়। ভুক্তভোগী সচেতনমহল মনে করছেন, হাসপাতালটিতে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা জরুরী হয়ে পড়েছে।
