
নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা। খুলনার ডুমুরিয়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এক জলদস্যুর বসতবাড়ি থেকে দেশীয় তৈরি পাইপগান উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। অবৈধ অস্ত্র ও মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে এই অস্ত্রটি জব্দ করা হয়।..খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রামকৃষ্ণপুর এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে জলদস্যু মোঃ আব্দুর রহমান শেখের বসতবাড়ি থেকে একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ৪টার দিকে ডুমুরিয়া থানা পুলিশের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে। জলদস্যু আব্দুর রহমান শেখ ওই এলাকার মোঃ রেজাউল শেখের ছেলে। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান ও অভিযানের সময় বাথরুমের ভেতর লুকিয়ে রাখা অবস্থায় আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি ও জলদস্যুতা পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি জব্দ তালিকার মাধ্যমে ডুমুরিয়া থানায় সংরক্ষণ করা হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে রামকৃষ্ণপুর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুতার দৌরাত্ম্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুর রহমান শেখের মতো অপরাধীরা নিয়মিতভাবে নদীর তীরে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করে আসছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, রাতের অন্ধকারে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। বাথরুমে অস্ত্র লুকিয়ে রাখার বিষয়টি প্রমাণ করে যে, অপরাধীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে কতটা কৌশলী ভূমিকা নেয়। এই অস্ত্র উদ্ধারের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও, এ ধরনের অপরাধীদের সাথে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের খুঁজে বের করার দাবি জোরালো হচ্ছে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ খন্দকার হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যখন পুলিশের টিম অভিযান চালায়, তখন অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ি থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাইপগানটি পাওয়া যায়। অস্ত্রটি জব্দের পর আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, অপরাধী যেই হোক না কেন, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কোনো কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।ডুমুরিয়ার এই ঘটনাটি উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পুনরায় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। জলদস্যুতার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িতরা এখনো যে দেশীয় অস্ত্রের মজুত গড়ে তুলছে, তা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এবং নদীপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল হোতা ও অস্ত্র সরবরাহকারী চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের এই তৎপরতা অব্যাহত রাখা এখন সময়ের দাবি।
