
বিশেষ প্রতিনিধি পরেশ দেবনাথ
যশোরের কেশবপুরে রোগ যন্ত্রণা সইতে না পেরে জোহরা বেগম (৫০) নামের এক মহিলা ঘরের আড়ার সাথে নিজের ব্যবহৃত ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর-২৬) রাতে পৌর শহরের আলতাপোল শান্তিপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। সে উপজেলার লক্ষীনাথকাটি গ্রামের বাবুল হোসেনের স্ত্রী। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। যার মামলা নং-৩৯।থানা, পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার লক্ষীনাথকাটি গ্রামের বাবুল হোসেনের স্ত্রী জোহরা বেগম (৫০) দীর্ঘদিন ধরে কেশবপুর পৌর শহরের আলতাপোল শান্তিপাড়া এলাকায় আয়ুব সরদারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তার একমাত্র ছেলে সিরাজুল ইসলাম চাকরির সুবাদে নোয়াখালীতে থাকেন। জোহরা বেগম দীর্ঘদিন যাবৎ মানসিক ও শারীরিকভাবে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর-২৬) রাতের খাওয়া দাওয়া শেষে বসতবাড়ীর শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। ১৭ সেপ্টেম্বর ভোরে পাশের ভাড়াটিয়া তাসলিমা খাতুন (২২) ঘুম থেকে উঠে জোহরা বেগমকে ডাকাডাকি করতে থাকেন। কিন্তু ঘরের ভিতর থেকে তার কোন সাঁড়া শব্দ না পেয়ে তিনি দরজার ফাকা দিয়ে বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। ওইসময় তাসলিমার ডাক-চিৎকার এলাকাবাসী এগিয়ে এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে বাঁশের আড়া থেকে তাকে মৃত অবস্থায় নিচে নামিয়ে ফেলেন এবং থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করাসহ নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসেন।এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন বলেন, গলায় ফাঁস দিয়ে জোহরা বেগমের আত্মহত্যার ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য নিহতের মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
