খুলনা, বাংলাদেশ | ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ফলোআপ ইসলামাবাদ থেকে চুরি হওয়া গরু দুইটি উদ্বার
  খুলনায় বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব খুলনা মহানগর শাখার ৪৫ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠিত
  ডুমুরিয়া খর্নিয়ায় মামলা-হামলার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ
  খুলনায় ইউপি নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে।চেয়ারম্যান প্রার্থী মতলেবুর রহমান মিতুল এর উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত।
  কয়রার কাছারি বাড়ীর বটতলায় ১০দিন ব্যাপী বৃক্ষ মেলা অনুষ্ঠিত।
  আলী আসগর লবীর দ্রুত সুস্থতা কামনায় রংপুর ইউনিয়ন বিএনপির দোয়া মাহফিল
  ঈদগাঁওতে নতুন পর্যটন স্পট মাইজ পাড়া ভিউ পয়েন্টে বিনোদন প্রেমীদের ভীড় 
  ডুমুরিয়ার ১৪ ইউনিয়নে সবুজ বনায়ন কর্মসূচি ডুমুরিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ শুরু
  দাকোপের ব্র‍্যাকের উদ্যোগে ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
  জালালাবাদে মোহাম্মদিয়া রওদ্বাতুত তাকওয়া মাদ্রাসায় হিফজ সবক অনুষ্ঠান সম্পন্ন

ডুমুরিয়ায় বন্যার পানিতে কবরও ডোবে—বিলপাটেলায় মৃত্যুর পরও শান্তি নেই, উঁচু করে গাঁথুনি বানিয়ে দাফন! বছরের পর বছর জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ—হামকুড়া-শোলমারি নদী খনন ও জোয়ার-ভাটা চালুর দাবি

[ccfic]

ডুমুরিয়া,নিজস্ব প্রতিনিধি জি. এম. ফিরোজ

বন্যার পানি যেন বিলপাটেলাবাসীর জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে। অতিবৃষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় প্রতি বছরই ভোগান্তির শেষ নেই। এবার সেই দুর্ভোগ পৌঁছেছে মৃত্যুর পরও—বন্যাকবলিত ডুমুরিয়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের বিলপাটেলা গ্রামে স্বাভাবিকভাবে কবর দেওয়ার জায়গাটুকুও মিলছে না। ফলে ইট, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে গাঁথুনি তুলে উঁচু করে দাফন করতে হয়েছে ৯৫ বছর বয়সী আব্দুর রশিদ মোল্লাকে।বিলপাটেলা গ্রামের মৃত ধলু মোল্লার ছেলে আব্দুর রশিদ মোল্লা দীর্ঘদিন প্যারালাইসিসে ভুগছিলেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার সকাল ৯টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। কিন্তু স্বজনদের শোকের সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন দুশ্চিন্তা—বন্যার পানিতে ডুবে থাকা এলাকায় কোথায় হবে মরহুমের দাফন?স্থানীয়রা জানান, বন্যার কারণে কবর খনন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোমরসমান পানি, কোথাও নরম কাদামাটি। স্বাভাবিকভাবে কবর দেওয়ার সুযোগ না থাকায় শেষ পর্যন্ত ইটের সলিংয়ের ওপর ইট-বালু-সিমেন্টের গাঁথুনি করে জায়গাটি উঁচু করা হয়। সেই উঁচু স্থানেই সম্পন্ন করা হয় আব্দুর রশিদ মোল্লার দাফন।মৃত্যুর পর একজন মানুষের শেষ ঠিকানাও যদি পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে তৈরি করতে হয়—তাহলে প্রশ্ন উঠছে, বিলপাটেলাসহ আশপাশের বন্যাকবলিত মানুষের এই দুর্ভোগের অবসান কবে? বছরের পর বছর জলাবদ্ধতা, কৃষিজমি ও বসতবাড়িতে পানি, চলাচলে দুর্ভোগ—এবার দাফনকাজেও তৈরি হয়েছে চরম সংকট। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, বিলপাটেলাসহ বিস্তীর্ণ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে হামকুড়া নদী অথবা শোলমারি নদী খনন করে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, নদী-খাল খনন ও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা ছাড়া প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগ ফিরে আসবে।এলাকাবাসী খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর লবীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত নদী খনন, পানি নিষ্কাশন ও জোয়ার-ভাটা চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।মানুষের জীবন যখন পানির কাছে জিম্মি, তখন মৃত্যুর পরও যদি কবরের জন্য উঁচু মাটি খুঁজতে হয়—তবে বিলপাটেলাবাসীর প্রশ্ন একটাই, এই জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে তারা কবে মুক্তি পাবে?

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT