
ডুমুরিয়া নিজস্ব প্রতিনিধি:জি. এম. ফিরোজ,
আর নেই খুলনার ডুমুরিয়ার চেচুড়ী আন্তর্জাতিক কারিগরি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষক মোঃ জহুরুল ইসলাম (৪৭)। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে খুলনার আবু নাসের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে গেছেন।নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসা জহুরুল ইসলামের আকস্মিক মৃত্যুতে চেচুড়ী আন্তর্জাতিক কারিগরি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সহকর্মী, স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।বুধবার সকাল ১০টায় চেচুড়ী অলকা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। জানাজা শেষে নিজ পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।জানাজায় ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা জেলা আমির মাওলানা ইমরান হোসাইন। এ সময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহ-সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, ডুমুরিয়া থানা জামায়াতের আমির মাওলানা মুক্তার হোসাইন, ধামালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রফেসর হুমায়ুন কবির স্বপন, ধামালিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাস্টার মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, ধামালিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বিএম জহুরুল হক এবং চেচুড়ী আন্তর্জাতিক কারিগরি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রিন্সিপাল আব্দুল হালিম শিকদার।
জানা গেছে, মরহুম জহুরুল ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ১ নম্বর ধামালিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর চেচুড়ী-দহাকুলা ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।তার মৃত্যুতে শিক্ষকতা অঙ্গন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
জানাজায় উপস্থিতদের অনেকেই বলেন, জহুরুল ইসলামের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, শিক্ষকতা অঙ্গনেও তৈরি করেছে এক গভীর শূন্যতা। মহান আল্লাহ যেন তাকে ক্ষমা করে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন এবং তার পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দেন—এমন দোয়া করেন তারা।
