খুলনা, বাংলাদেশ | ১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  কেশবপুরে জাতীয় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
  ডুমুরিয়ায় জলদস্যু আব্দুর রহমানের বাড়িতে অভিযান, পরিত্যক্ত পাইপগান উদ্ধার
  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর খুলনা জেলায় আগমন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন: খুলনা জেলা পুলিশ সুপার
  সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে ১০০ বোতল উইনকেরেক্সসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার
  কাশিয়ানীতে ১ হাজার ৩৮০ পিস ইয়াবা ও ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।
  মাদক সংক্রান্ত বিরোধে খুলনায় যুবককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
  নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান, মজুদ ৯৭.৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট
  খুলনার রূপসা নদী থেকে দুই ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার 
  আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল নিক্ষেপআশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ
  মিরপুরে সংঘর্ষ-আগুন, চার মামলায় আসামি সাড়ে ১০ হাজার

বটিয়াঘাটা এইচ কে বিশেষ শিক্ষা প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিদর্শনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ম্যানেজিং কমিটি-২০২৬ এর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত:

[ccfic]

নিজস্ব প্রতিনিধি আবিদুর রহমান আলিফ 

খুলনা জেলা বটিয়াঘাটা উপজেলার এইচ কে বিশেষ শিক্ষা প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান। তিনি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা, যাতায়াত ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত সংকট এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় হয়।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিপা বৈরাগীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নিগার সুলতানা, প্রকৌশলী গৌতম কুমার মন্ডল এবং বটিয়াঘাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহরাব হোসেন মুন্সী।সভায় সবচেয়ে গুরুত্ব পায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের বিষয়টি। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় অনেক শিশুর নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপন, পাকা টয়লেট নির্মাণসহ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেদের অর্থায়নে ০.২২৫০ একর জমি ক্রয় করে তা প্রতিষ্ঠানের নামে দান করেন। এরপর থেকে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজস্ব অর্থায়ন ও প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে বিভিন্ন বয়সের ১২১ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে।তাঁরা বলেন, ২০১৫ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নিজেদের অর্থায়নে পরিচালিত এই বিদ্যালয়টি এখন আর্থিক ও অবকাঠামোগত সংকটের মুখে পড়েছে। প্রয়োজনীয় সহায়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি না পেলে দীর্ঘদিনের আশা-স্বপ্ন নিয়ে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টির শিক্ষক-কর্মচারীদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।পরিদর্শনকালে ইউএনও থান্দার কামরুজ্জামান বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি মতামত দেন।এ ক্ষেত্রে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জমির দলিল ও প্রতিষ্ঠানের নামে দানের কাগজপত্র, ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদিত তালিকা, শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও যোগ্যতার কাগজপত্র, শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, উপস্থিতির রেজিস্টার, পাঠদানের তথ্য, আয়-ব্যয়ের হিসাব, বিদ্যালয়ের ভবন ও জমির তথ্য, প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রত্যয়ন যথাযথভাবে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। তবে নিবন্ধনের জন্য চূড়ান্ত কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ বিধিমালা অনুযায়ী যাচাই করা জরুরি।সভায় ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি সেখ মোঃ রাসেল হোসেন, শিক্ষক প্রতিনিধি দেব দুলাল জোয়াদ্দার, শিক্ষানুরাগী, উদ্যোক্তা গৌরহরি বৈরাগী, অভিভাবক প্রতিনিধি নবনীতা মন্ডলসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়াও শিক্ষক অম্লান রায়, নিপা রানী বালা, সেতু গাইন, শিরীনা নাজনীন, কপিল বিশ্বাস, বৈশাখী বাছাড়, ডালিয়া মন্ডল, সীমা রানী মন্ডল, পিয়ালী রায়, ইভা ঢালী, অম্বিকা রায় ও মুক্তা সরকার এবং কর্মচারী সুমন কুমার কর্মকার, জীবন জোয়াদ্দার, সুনীতা ঢালী, নিতাই সরকার, উত্তম মন্ডল ও বিবেক মন্ডল উপস্থিত ছিলেন।সভায় স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দের মধ্যে মোঃ ইমরান হোসেন ও এলাকাবাসীও উপস্থিত ছিলেন।সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের নজরদারি ও সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে বিদ্যালয়টি শুধু টিকে থাকবে না, বরং ১২১ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর শিক্ষা, দক্ষতা ও স্বাভাবিক জীবন গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে উঠবে।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT