খুলনা, বাংলাদেশ | ৪ঠা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক
  গোমস্তাপুরে ৭ লিটার চোলাইমদসহ নারী গ্রেফতার
  ঈদগাঁও ৩নং ওয়ার্ড যুব বিভাগের কমিটি গঠন উপলক্ষে আলোচনা সভা
  মা ও শিশু পুষ্টি নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা কেসিসি’র দায়িত্ব
  ডুমুরিয়ায় গ্রীন ফোর্সের উপজেলা কমিটি, আহ্বায়ক ফয়সাল ও সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর
  ‎ডুমুরিয়ায় তিন বিলের পানি নিষ্কাশনে স্লুইস গেটের পলি অপসারণ স্বেচ্ছাশ্রমে
  কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত তরুণীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার
  মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণদের হাতে ফুটবল বিতরণ করলেন যুবনেতা শেখ হুমায়ূন কবির
  লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি সফল করতে নিরাপদ খুলনা চাই-এর প্রস্তুতি সভা
  অসুস্থ মায়ের সুস্থতা কামনায় সবার কাছে দোয়া চাইলেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহাগ

মাদরাসা থেকে শিশুকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, উদ্ধারে পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার দাবি

[ccfic]

তারিক লিটু, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ

খুলনার কয়রায় একটি কওমি মাদরাসা থেকে আট বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে মোটরসাইকেলে করে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির দাদা কয়রা থানায় তার নাতির মামাসহ দুজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। একই ঘটনায় শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের এক সদস্যের বিরুদ্ধে এক হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও তুলেছে শিশুটির পরিবার। তবে পুলিশ সদস্যরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিশু কয়রার জামাআতুল আবরার ইসলামিয়া মাদরাসায় পড়াশোনা করছিল। তার বাবা-মায়ের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ায় সে মাদরাসায় থেকে পড়াশোনা করত।শিশুটির দাদা মো. জিয়াদ আলী গাইনের অভিযোগ, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাদরাসার শিক্ষকদের না জানিয়ে জাকারিয়ার মামা মেহেদী হাসানসহ দুজন মোটরসাইকেলে করে তাকে তুলে নিয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করেন। পরে কয়রার বিভিন্ন বাজারে তাদের আটকের চেষ্টা করা হলেও তারা পালিয়ে যায়শিশুটির পরিবারের দাবি, পরে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিশুটির বাবা জাহাঙ্গীর আলম কয়রার থানার আমাদী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মেহেদী হাসানকে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে পুলিশ বিষয়টিতে গুরুত্ব না দিলেও পরে এক হাজার টাকা দেওয়ার পর এসআই মেহেদী হাসান ও কনস্টেবল ইয়াসিন শিশুটিকে উদ্ধারে যান।তবে পুলিশ সদস্যরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এসআই মেহেদী হাসান বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি টাকা নেননি।পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা শিশুটির অবস্থান জানতে পেরে একটি বাড়িতে যান। সেখানে জাকারিয়াকে তার মা ফাতেমা আক্তার রিতুর সঙ্গে পাওয়া যায়। এরপর পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে।শিশুটির মা ফাতেমা আক্তার রিতু বলেন, তার সঙ্গে তার স্বামীর বনিবনা না থাকায় তাদের মধ্যে মামলা চলমান রয়েছে। তার সন্তানকে তার কাছ থেকে আলাদা করে মাদরাসায় রাখা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সন্তানকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনতেই তিনি তার ভাইয়ের সহযোগিতায় মাদরাসা থেকে জাকারিয়াকে নিয়ে আসেন।রিতুর ভাষ্য, শিশুটিকে নিয়ে আসার সময় সে কান্নাকাটি করছিল। এ কারণে স্থানীয় লোকজন বিষয়টিকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে মনে করেছেন। তবে তার দাবি, তিনি সন্তানকে জোর করে অপহরণ করেননি; বরং নিজের সন্তানকে নিজের কাছে নিয়ে এসেছেন।এদিকে, শিশুটির দাদা জিয়াদ আলী গাইন (আজ ১৯ আগস্ট) বুধবার কয়রা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তার নাতিকে মাদরাসা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে মেহেদী হাসানসহ দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “জোর করে অপহরণের বিষয়টি জানার পর আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। জানতে পারি, দুজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে আমাদের শিক্ষার্থী জাকারিয়াকে নিয়ে গেছেন। এরপর আমরা শিশুটির খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করি।”অভিযোগের বিষয়ে আমাদী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মেহেদী হাসান ও কনস্টেবল ইয়াসিনের সঙ্গে কথা বলা হলে তারা পরিবারের কাছ থেকে এক হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। এসআই মেহেদী হাসান বলেন, টাকা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা তা গ্রহণ করেননি।তবে শিশুটির বাবা জাহাঙ্গীর আলম ও দাদা জিয়াদ আলী গাইন দাবি করেন, শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের সদস্যকে বিকাশে এক হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল।কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম বলেন, শিশুটিকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে শিশুটির মামার বিরুদ্ধে তাকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। পুলিশের এক সদস্যের বিরুদ্ধে এক হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।খুলনা জেলা পুলিশের ডি-সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আমির হামজা বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT