
মোঃ শাহিন (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি
অভাবের কারণে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে না পেরে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লিমা খাতুনের বিয়ের আয়োজন করেছিল পরিবার। তবে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় ইচ্ছা আর উপজেলা প্রশাসনের সময়োপযোগী পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল সে।লিমা খাতুন গোমস্তাপুর উপজেলার কয়লাদিয়াড় এলাকার বাসিন্দা ও রাজমিস্ত্রী লিটনের বড় মেয়ে। সে স্থানীয় গোমস্তাপুর গার্লস একাডেমির বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুই বোনের মধ্যে ছোট বোন পড়ে তৃতীয় শ্রেণিতে।পারিবারিক চরম আর্থিক সংকটের কারণে লিমার পড়াশোনা বন্ধ করে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অদম্য লিমার ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার। বিষয়টি সে তার স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শরিফা খাতুন চৌধুরীকে জানায় এবং স্পষ্ট বলে দেয় যে সে এখন বিয়ে করতে চায় না।পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষিকা বিষয়টি গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সির নজরে আনেন। খবর পেয়েই ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে লিমার শিক্ষার সহায়তায় ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে যেকোনো ধরণের সহায়তার আশ্বাস দেন।সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত লিমা খাতুন বলে, “আমি এখনই বিয়ে করতে চাই না। আমার স্বপ্ন লেখাপড়া শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। স্যার যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমি আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পেয়েছি।”স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শরিফা খাতুন চৌধুরী বলেন, “লিমা একজন মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। শুধু আর্থিক সংকটের কারণে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাক, তা আমরা চাইনি। ইউএনও স্যারকে জানালে তিনি দ্রুত সাড়া দেন। এতে লিমার পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীরাও অনুপ্রাণিত হবে।”লিমার মা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “অভাবের সংসারে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল, তাই বাধ্য হয়ে বিয়ের কথা ভেবেছিলাম। ইউএনও স্যারের সহযোগিতায় এখন মেয়েকে আবার পড়াশোনা করাতে পারব।”এ বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সি জানান, “কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন যেন কেবল দারিদ্র্যের কারণে থেমে না যায়, সেটাই আমাদের মূল চেষ্টা। বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক অপরাধ এবং প্রতিটি শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। লিমার মতো যেকোনো শিক্ষার্থী বিপদে পড়লে প্রশাসন সর্বোচ্চ পাশে থাকবে।”ইউএনওর এই সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগে লিমা ও তার পরিবার স্বস্তি ফিরে পেয়েছে। স্থানীয় অধিবাসীরা প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে অত্যন্ত সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং শিক্ষাবান্ধব সমাজ গঠনে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
