খুলনা, বাংলাদেশ | ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের উন্নয়নের প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোল্লা আবরার হোসেন সৈকতের দোয়া ও সমর্থন কামনা
  ১১ বছরের পথচলায় খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: উৎসবের সঙ্গে নতুন স্বপ্নের অঙ্গীকার
  খর্নিয়া ইউপি নির্বাচন ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন, তৃণমূলের আলোচনায় বিএনপি নেতা শেখ শাহিনুর রহমান
  দাকোপে ৩ দিনের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন।
  ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় বি এনপি নেতা আবুল কাশেম
  ‎ডুমুরিয়ায় ভদ্রানদী খননের মাটি বিক্রি সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয়, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিদ্ধ জনগণ
  উখিয়ায় ইয়াবাসহ ৪ ভাই-বোন আটক
  দাকোপ উপজেলা নবগঠিত যাত্রা শিল্পী পরিষদের পরিচিতি সভা
  ডুমুরিয়ায় সরকারি রাস্তা দখল করে ভাড়াটিয়া দোকানদারদের পসরা: চরম ভোগান্তিতে চালক ও সাধারণ মানুষ
  তেরখাদায় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে এমপি হেলাল, আবনালী বিলে পোনা অবমুক্ত

ডুমুরিয়ায় কাঁকড়া চাষে হাজারো চাষীর ভাগ্যবদল, রফতানি আয়ে নতুন দিগন্ত

[ccfic]

 

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):

ডুমুরিয়া খুলনা ১৯জুলাই ২০২৬ ধান কিংবা প্রথাগত মাছ চাষের চেয়ে কম সময়ে এবং অধিক লাভে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কাঁকড়া চাষ। অনুকূল আবহাওয়া, লবণাক্ত পানির সহজলভ্যতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় এই অঞ্চলের শত শত বেকার যুবক ও সাধারণ চাষী কাঁকড়া চাষ করে এখন স্বাবলম্বী। ডুমুরিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিল ও ঘেরগুলোতে এখন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে উন্নত জাতের কাঁকড়া, যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে।চাষীরা জানান, অন্যান্য মাছের তুলনায় কাঁকড়ার রোগবালাই কম এবং মাত্র ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যেই এটি বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ‘সফট শেল’ (নরম খোলস) ও ‘হার্ড শেল’ (শক্ত খোলস) দুই পদ্ধতিতেই এখানে কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে, যার বাজারমূল্য বেশ চড়া।ডুমুরিয়া উপজেলায় কাঁকড়া চাষের এই নীরব বিপ্লব ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন স্থানীয় ও জেলা মৎস্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা।ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন:”ডুমুরিয়া উপজেলার মাটি ও পানি কাঁকড়া চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার চাষীরা প্রথাগত চাষাবাদ থেকে বের হয়ে এসে আধুনিক পদ্ধতিতে কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ করছেন। মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা চাষীদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ, মানসম্মত পোনা নির্বাচন এবং ঘের ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে আসছি। কাঁকড়া চাষে ঝুঁকি কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে।”খুলনার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান বলেনঃ”খুলনা অঞ্চলের কাঁকড়ার গুণগত মান খুব ভালো হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষ করে চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও আরব আমিরাতে এর বিশাল চাহিদা রয়েছে। এটি আমাদের অন্যতম প্রধান একটি রফতানি খাত হয়ে উঠছে। চাষীরা যাতে সঠিক মূল্যে কাঁকড়া বিক্রি করতে পারেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমে, সেজন্য আমরা বাজার লিংকেজ তৈরির কাজ করছি। পরিবেশবান্ধব উপায়ে কাঁকড়া চাষ সম্প্রসারণের জন্য সরকারিভাবে নানা উদ্যোগ চলমান রয়েছে।”ডুমুরিয়ার মাদারতলা, মাগুরখালী, সাহস ও শোভনা ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন চাষীর সাথে কথা বলে জানা যায়, একসময় যারা ঋণের বোঝা নিয়ে দিশেহারা ছিলেন, তারা এখন কাঁকড়া চাষ করে পাকা বাড়ি ও জমির মালিক হয়েছেন।স্থানীয় চাষীরা জানান, প্রাকৃতিকভাবে নদী-নালা থেকে সংগ্রহ করা ছোট কাঁকড়া এনে ঘেরে ৩0 থেকে 80 দিন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খাবার দিয়ে বড় করা হয়। বিশেষ করে নারী কাঁকড়া (যার ডিম চড়া দামে বিক্রি হয়) এবং গ্রেড-ওয়ান পুরুষ কাঁকড়ার বাজারমূল্য সবচেয়ে বেশি।তবে চাষীদের দাবি, সরকারিভাবে যদি আরও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা যায় এবং পোনার কৃত্রিম প্রজনন (হ্যাচারি) আরও সহজলভ্য করা যায়, তবে ডুমুরিয়ার কাঁকড়া দেশের রফতানি আয়ে চিংড়ির মতোই এক বিশাল ভূমিকা রাখতে পারবে।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT