খুলনা, বাংলাদেশ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  যা শুরু করেছেন, আপনাদের কারণেই আওয়ামী লীগ ফিরবে’
  ইরান যুদ্ধবিরতি বাড়ানোয় যুক্তরাষ্ট্রকে স্বাগত জানাল ব্রিটেন
  দুই কোটি টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় নাগরিক আটক
  ৯ মাসেই এক লাখ কোটি টাকার রেকর্ড রাজস্ব ঘাটতি
  পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ আজ
  একটি নারী আসন হারাচ্ছে জামায়াত-এনসিপি জোট
  নকলমুক্ত পরিবেশে রূপসার শিয়ালী কেন্দ্রে এসএসসির দ্বিতীয় দিনের পরীক্ষা সম্পন্ন
  যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে আট নারীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে ইরান
  পানামা খালে ব্যাপক জট, ৪০ লাখ ডলারে সিরিয়াল বিক্রি
  শুল্কমুক্ত নয় সরকারি গাড়ির কথা বলেছি

৯ মাসেই এক লাখ কোটি টাকার রেকর্ড রাজস্ব ঘাটতি

[ccfic]

ডেস্ক রিপোর্ট: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে রেকর্ড প্রায় এক লাখ কোটি টাকার ঘাটতির মুখে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআরের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ চিত্র উঠে এসেছে।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) এনবিআরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৯ মাসে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ও আয়কর কোনো খাতেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। তবে রাজস্ব আদায়ে গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ঘাটতি হয় ৪০ হাজার পাঁচশ কোটি টাকা। আমদানি খাতে ২২ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা ঘাটতি হয়। আলোচ্য সময়ে ভ্যাট আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ৩৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যবসা-বাণিজ্য শ্লথগতি থাকায় রাজস্ব আদায় তুলনামূলক কম হয়েছে। করের আওতা বৃদ্ধি, কর পরিপালন নিশ্চিতকরণ, কর ফাঁকি প্রতিরোধ এবং ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব পুনরুদ্ধার করার কাজ করছে এনবিআর। সংশোধিত বাজেট অনুসারে চলতি অর্থবছরে এনবিআরকে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে।এদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত হলো রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। আইএমএফের এমন শর্তের মুখে এত বিশাল ঘাটতিতে পড়ল এনবিআর। লক্ষ্য অর্জনে অর্থবছরের বাকি সময়ে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকা কর আদায়ের চাপ এনবিআরের ওপর। যদিও এই মোটা অঙ্কের রাজস্ব আহরণ এনবিআরের জন্য অসম্ভব বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।এদিকে, চলতি অর্থবছরে বড় ধরনের ঘাটতির মুখে থাকার পরও আইএমএফের শর্তের কারণে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআর ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছে বলে জানা গেছে।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিশাল রাজস্ব আদায় নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেটের মাধ্যমে সরকারের খরচের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। এনবিআরের মাধ্যমে সরকারের আয় বাড়ানোর বিকল্প নেই। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য সংকট, তেলের দাম বৃদ্ধিসহ নানামুখী সংকটের মধ্যে আছে ব্যবসা-বাণিজ্য। আইএমএফের শর্তও আছে। ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের শর্ত হিসাবে প্রতি বছর জিডিপির আধা শতাংশের বেশি অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের শর্ত দিয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া সরকারের উন্নয়ন খরচ ছাড়া পুরো খরচই অভ্যন্তরীণ রাজস্ব থেকে দিতে হয়।এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি অর্থবছরের বাকি তিন মাসে নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজস্ব আহরণ বাড়ানো। এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে আদায় করতে হবে ২ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। প্রতি মাসে গড়ে ৭১ হাজার ৭১২ কোটি টাকা আদায় না করলে লক্ষ্য অর্জন হবে না। কারণ, চলতি অর্থবছরের কোনো মাসেই এত রাজস্ব আদায় হয়নি। গত জানুয়ারি মাসে সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকা আদায় করেছে এনবিআর। আর এ অর্থবছরে সর্বনিম্ন রাজস্ব আদায় হয়েছে গত আগস্ট মাসে, ২৭ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT