খুলনা, বাংলাদেশ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে আট নারীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে ইরান
  পানামা খালে ব্যাপক জট, ৪০ লাখ ডলারে সিরিয়াল বিক্রি
  শুল্কমুক্ত নয় সরকারি গাড়ির কথা বলেছি
  ছাত্রদল নেতা অন্তর শ্রীপুরে পরীক্ষার্থীদের মাঝে কলম ও স্কেল বিতরণ অনুষ্ঠিত
  খুলনায় স্কুল ফিডিংয়ে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের অভিযোগ, ছত্রাকযুক্ত রুটি নিয়ে তদন্তে অনিয়মের সত্যতা
  বৃষ্টির পানিতেই টিকে থাকা জীবন, খুলনার ৩০০ গ্রামে তীব্র পানিসংকট
  সুগার ড্যাডি কাণ্ডে’ চাকরি খোয়ালেন ট্রাম্পের সহযোগী
  ডুমুরিয়ায় তীব্র লোডশেডিং ও তাপদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন: ব্যাহত হচ্ছে সেচ ও শিক্ষা
  মিটফোর্ড হাসপাতালে যৌথ অভিযানে ১৬ দালাল আটক
  সব মডেল মসজিদের বিদ্যুৎ বিল সরকার পরিশোধ করবে

খুলনায় স্কুল ফিডিংয়ে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের অভিযোগ, ছত্রাকযুক্ত রুটি নিয়ে তদন্তে অনিয়মের সত্যতা

[ccfic]

নিজস্ব প্রতিবেদনক:খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় নিম্নমানের ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য সরবরাহের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে নেয় এবং প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামানের নির্দেশে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় দেবনাথ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরবরাহকৃত খাদ্যসামগ্রীর গুণগত মান যাচাইয়ে একাধিক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে।স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বনরুটি, সিদ্ধ ডিম, ইউএইচটি দুধ, ফোর্টিফাইড বিস্কুট ও মৌসুমি ফল সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে সব উপাদান যথাযথভাবে সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ফোর্টিফাইড বিস্কুট এখনো অনেক বিদ্যালয়ে পৌঁছেনি। মৌসুমি ফল হিসেবে কলা সরবরাহ করা হলেও তা অনেক ক্ষেত্রে কাঁচা অবস্থায় পাওয়া গেছে।সবচেয়ে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুজ্জামান জানান, ২০ এপ্রিল সরবরাহকৃত ৪৬০টি বনরুটির মধ্যে ২৩২টিতে ছত্রাকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। তিনি বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর তাৎক্ষণিকভাবে রুটি বিতরণ বন্ধ করা হয় এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ভুধর চন্দ্র সানাকে অবহিত করা হয়।একাধিক বিদ্যালয় থেকে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সরবরাহকৃত ডিম অনেক ক্ষেত্রে দুর্গন্ধযুক্ত, ময়লাযুক্ত ও নষ্ট অবস্থায় ছিল। পাশাপাশি বনরুটির মেয়াদ উত্তীর্ণ থাকা কিংবা মেয়াদের তারিখ অনুপস্থিত থাকার ঘটনাও পাওয়া গেছে।এর আগে ১১ এপ্রিল উপজেলা পর্যায়ের মাসিক সমন্বয় সভায় প্রধান শিক্ষকরা একযোগে খাদ্যের নিম্নমান নিয়ে অভিযোগ তোলেন। ওই সভায় স্থানীয় সরবরাহকারী মোঃ মাহাদী হাসান এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওসাকা এনজিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে সংশ্লিষ্টরা ভবিষ্যতে মান বজায় রাখার আশ্বাস দেন বলে জানা যায়।তবে এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকদের অনেকে শিশুদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT