খুলনা, বাংলাদেশ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  দুই কোটি টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় নাগরিক আটক
  ৯ মাসেই এক লাখ কোটি টাকার রেকর্ড রাজস্ব ঘাটতি
  পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ আজ
  একটি নারী আসন হারাচ্ছে জামায়াত-এনসিপি জোট
  নকলমুক্ত পরিবেশে রূপসার শিয়ালী কেন্দ্রে এসএসসির দ্বিতীয় দিনের পরীক্ষা সম্পন্ন
  যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে আট নারীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে ইরান
  পানামা খালে ব্যাপক জট, ৪০ লাখ ডলারে সিরিয়াল বিক্রি
  শুল্কমুক্ত নয় সরকারি গাড়ির কথা বলেছি
  ছাত্রদল নেতা অন্তর শ্রীপুরে পরীক্ষার্থীদের মাঝে কলম ও স্কেল বিতরণ অনুষ্ঠিত
  খুলনায় স্কুল ফিডিংয়ে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের অভিযোগ, ছত্রাকযুক্ত রুটি নিয়ে তদন্তে অনিয়মের সত্যতা

একটি নারী আসন হারাচ্ছে জামায়াত-এনসিপি জোট

[ccfic]

ডেক্স :

সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ১৩ জনের মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনিরা শারমিনের মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, সাবেক এই সরকারি কর্মকর্তার মনোনয়নের বৈধতা নেই বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা। সেই হিসেবে মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল হলে ওই সংরক্ষিত নারী আসনটি হারাতে পারে জামায়াত জোট।কারণ, কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলে সেখানে উপনির্বাচন হয়। আর উন্মুক্ত সেই উপনির্বাচনে সব দল প্রার্থী দিতে পারে।এনসিপির নারীশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে জেনারেল অফিসার পদে নিয়োগ পান। সর্বশেষ গত বছর ডিসেম্বরে কৃষি ব্যাংক থেকে চাকরি ছেড়েছেন। মনিরা শারমিনের ফেসবুক প্রোফাইলে ১১ নভেম্বর ২০২৩ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত কৃষি ব্যাংকের অফিসার হিসেবে চাকরি করার তথ্য রয়েছে। সেই হিসেবে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের মাত্র চার মাসের মাথায় জোটের সমর্থনে সংসদ সদস্য হতে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তবে আইনে আছে, সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন বছরের মধ্যে কেউ সংসদ সদস্য হতে পারবেন না।ইসি সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের ১২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এ জোটের প্রার্থী এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করার পর আজ বৃহস্পতিবার তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে ইসি।গতকাল বুধবার দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোট প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করেন ইসির যুগ্ম সচিব ও এ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. মঈন উদ্দীন খান। মনোনয়পত্র বাছাই শেষে তিনি জানান, আমরা ১৩টি বাছাই করেছি, এর মধ্যে ১২টি বৈধ ঘোষণা করা হলো। একজনের মনোনয়নপত্র নিয়ে সিদ্ধান্ত অপেক্ষমাণ (পেন্ডিং), তাকে আজ দুপুর ১২টার মধ্যে ডকুমেন্ট দেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, মনিরা শারমিন যে কাগজপত্র দিয়েছেন, তাতে সরকারি পে-স্কেলের কথা উল্লেখ রয়েছে। এজন্য তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য বলা হয়েছে। তবে পদত্যাগ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য—কবে, কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন, তা না থাকায় বৃহস্পতিবার (আজ) দুপুর পর্যন্ত তার মনোনয়ন বাছাই কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।এদিকে আইন অনুযায়ী, মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বৈধ হওয়ার সুযোগ নেই। আরপিওর ১২(১)(চ) ধারা অনুযায়ী, ‘কোনো ব্যক্তি সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার বা সদস্য থাকার জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, যদি তিনি—প্রজাতন্ত্রের চাকরি বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ বা প্রতিরক্ষা পরিষেবা থেকে পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণ করে থাকেন, যদি না তার পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণের তারিখ থেকে তিন বছর সময় অতিবাহিত না হয়ে থাকে।’জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ এর ২৯ ধারায় বলা আছে, ‘সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে অন্যান্য বিধিমালার জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর অধীনে প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীর যোগ্যতা ও অযোগ্যতা বিষয়ে জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইনের ৮ (২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ বা অন্য কোনো আইনের অধীন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ সদস্য থাকিবার অযোগ্য কোনো ব্যক্তি সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রার্থী হইবার যোগ্য হই’এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘মনিরা শারমিনের মনোনয়নের বিষয়টি আইন পারমিট করে না। আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি চাকরিজীবী চাকরি ছাড়ার তিন বছর শেষ না হলে তিনি সংরক্ষিত নারী আসনেও সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন। আর সেখানে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার মাত্র চার মাসের মাথায় মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বৈধ হওয়ার সুযোগ নেই।’তিনি বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের যে বিধান সাধারণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, একই বিধান সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। সুতরাং এটা নিয়ে বিতর্ক করার সুযোগ নেই।’ইসি সূত্রে জানা গেছে, কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বাছাইয়ে বাতিল হলে সেখানে উপনির্বাচন হয়। আর উন্মুক্ত সেই উপনির্বাচনে সব দল প্রার্থী দিতে পারে। যেহেতু আইন অনুযায়ী মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বৈধ হওয়ার সুযোগ নেই, সেই হিসেবে তার মনোনয়ন বাতিল হতে পারে। আর যাচাই-বাছাইয়ে মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল হলে আসনটি হারাতে পারে জামায়াত জোট।সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল হলে, ওই আসনের কী হবে? জানতে চাইলে এই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন খান কালবেলাকে বলেন, ‘বাছাইয়ে মনোনয়ন বাতিল হলে সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং উন্মুক্ত ওই উপনির্বাচনে সব দল প্রার্থী দিতে পারবে।’এদিকে, গত সোমবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ১৩টির মধ্যে এনসিপির মনিরা শারমিন এবং মাহমুদা আলম মিতুকে মনোনয়ন দেয় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট। জোট থেকে এনসিপির দুজনকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও আরেক নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেন। মূলত মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের আশঙ্কায় বিকল্প প্রার্থী হিসেবে নুসরাত তাবাসসুম মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।যদিও এনসিপির অপর যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের দাখিল করা মনোনয়নপত্র আমলে নেয়নি ইসি। মূলত নির্ধারিত সময়ের পরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় ইসিতে তার আবেদনটি গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন খান বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। কমিশনের আইন অনুযায়ী সময়ের পরে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই।’অভিযোগ রয়েছে, মনিরা শারমিন সরকারি চাকরি ছাড়ার মাত্র চার মাসের মাথায় যেমন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, একইভাবে সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। যদিও সরকারি চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রবিধানেও এ বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবু বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা পদে বহাল থেকে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন দলটির প্রভাবশালী নারী নেত্রী মনিরা শারমিন।রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি প্রায় ১০ মাস সরকারি চাকরিতেও বহাল ছিলেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার সময়কাল ধরলে প্রায় দেড় বছর তিনি সরকারি চাকরির বিধিনিষেধ অমান্য করে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিষয়টি চাকরি প্রবিধান লঙ্ঘন, শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছে।শুরু থেকেই জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই নেত্রী দলটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন। দলীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত এনসিপির পক্ষে সংবাদ সম্মেলন, বিবৃতি, টকশো এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। সংগঠক ও নীতিনির্ধারক হিসেবে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান।২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার জেনারেল পদে নিয়োগ পান মনিরা শারমিন। নিয়োগের পর তিনি প্রথমে ব্যাংকের কুষ্টিয়া শাখায় যোগ দেন। পরে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বদলি হয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজার করপোরেট কার্যালয়ে আসেন। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে পড়েন।অথচ সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯-এর ২৫ নম্বর বিধিতে বলা আছে, কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারবেন না এবং কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বা সহায়তা করতে পারবেন না। এসব বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও তিনি সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পরও প্রায় ১০ মাস তিনি সরকারি চাকরিতে বহাল ছিলেন। এই সময়ে তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতাও গ্রহণ করেন। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৫ আসনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। যদিও পরবর্তী সময়ে এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে আসন ভাগাভাগির কারণে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী যথাযথ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরাসরি রাজনীতি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের পদে থাকা একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা চাকরি ছেড়ে দিলেও চাকরিকালীন তিনি সরকারের কাছ থেকে বেতন ও অন্যান্য সুবিধা নিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ চাইলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে।’

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT