
ডেক্স:
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এর ফলে বিকল্প রুট হিসেবে মধ্য আমেরিকার পানামা খালে জাহাজের চাপ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে ৪০ লাখ ডলারে সিরিয়াল বিক্রি হচ্ছে।সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম এমএসএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।ব্লুমবার্গের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে পানামা খালে বিশ্বজুড়ে ট্যাঙ্কার, গ্যাস ও পণ্যবাহী জাহাজের জট তৈরি হয়েছে। খালে প্রবেশ করতে গড়ে প্রায় সাড়ে তিন দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রায় ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি উত্তর আমেরিকার আটলান্টিক অঞ্চল ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবহন সময় কমানোর জন্য শিপিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা দেখা দিয়েছে। ফলে ‘এক্সপ্রেস’ সারচার্জ নামে সিরিয়াল বিক্রি শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে অপেক্ষা এড়িয়ে দ্রুত খাল পার হওয়া যায়। এর মাধ্যমে ফি বেড়ে ৪০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।সম্প্রতি একটি এলপিজি বা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী জাহাজ দ্রুত পারাপারের জন্য নিলামে ৪০ লাখ ডলার পরিশোধ করতে রাজি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসের শুরুতে এই ফি ১০ লাখ ডলারেরও কম ছিল। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ে এটি চারগুণ বেড়েছে। এই এক্সপ্রেস ফি নিয়মিত খাল ব্যবহারের ফির অতিরিক্ত। এটি সাধারণত কয়েক লাখ ডলার হয়ে থাকে।এমএসএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতির মূল কারণ হরমুজ প্রণালি অবরোধ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল এশিয়ার দেশগুলো বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি বাড়িয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় পানামা খালে জট আরও তীব্র হয়েছে।এদিকে এক্সপ্রেস ফি নিয়ে বিতর্ক বাড়তে থাকায় পানামা খাল কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সম্প্রতি এলপিজি জাহাজের জন্য নির্ধারিত নিলামমূল্য সাময়িক বাজার পরিস্থিতির প্রতিফলন, এটি খাল কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত কোনো স্থায়ী ফি নয়। গ্রাহকের জরুরি প্রয়োজন, বৈশ্বিক চাহিদা-জোগান, ভাড়া ও জ্বালানির দামের ওঠানামাসহ বিভিন্ন এই নিলামমূল্য নির্ধারিত হয়।
