খুলনা, বাংলাদেশ | ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  পহেলা বৈশাখে শুভেচ্ছা জানিয়ে জনসমর্থন চাইলেন হুমায়ুন কবির
  সংসদ থেকে বিরোধীদলের ওয়াকআউট যথাযথ ছিল না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ১০ শিশুর মৃত্যু
  মণিরামপুরের মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ: নিয়োগ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন
  ডুমুরিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে কৃষক ইমন খান
  কয়রা-পাইকগাছায় আইসিডি’র ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সেবা পেলেন ৪ হাজার মানুষ
  মনোনয়ন জমায় শক্ত বার্তা, বাগেরহাটের উন্নয়নে প্রত্যয়ে পাইলট রেনজিনা আহমেদ প্রিয়াংকা
  জুলাই শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সাথে ১১ দলীয় ঐক্যের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
  কৃষক কার্ডে থাকবে নগদ টাকা, সঙ্গে ১০ সেবা
  যশোরের বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান

দাকোপে তরমুজ চাষে পানির সংকটে দুশ্চিন্তায় কৃষক

[ccfic]

শচীন্দ্র নাথ মন্ডল , দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধিঃ
খুলনার দাকোপে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক লোকসান, স্থানীয় সিন্ডিকেট, অসময়ে বৃষ্টিপাত এবং সেচ পানির সংকটের কারণে কৃষকরা এই লাভজনক ফল চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে গত মৌসুমের তুলনায় এবার আবাদি জমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।পানির সংকটে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এলাকায় স্পষ্ট। খাল-বিল ও প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেচ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। পানির স্বল্পতা ও লবণাক্ততার ঝুঁকি কৃষির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খালগুলো সচল থাকলে আরও বেশি জমিতে তরমুজ আবাদ সম্ভব হতো বলে মনে করছেন তারা।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর এ উপজেলায় তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ১০০ হেক্টর। উৎপাদন হয়েছিলো ৩ লাখ ৩২ হাজার ১০০ মেট্রিকটন। এ খাত থেকে অর্থ উপার্জন হয়েছিল ৬৭০ কোটি টাকা। কিন্তু এ বছর সেই তুলনায় আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। গত বছরের থেকে এবছর ১৩০০ হেক্টর কম জমিতে তরমুজের চাষাবাদ হয়েছে।সরেজমিনে গত ১৫ ও ১৬ মার্চ দাকোপের অন্তত ১৫টি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ জমির তরমুজগাছ বড় হয়ে গেছে। গাছে ফুল ও গুটি আসা শুরু করেছে। কিছু খেতে তরমুজ বড় হয়েছে। পানি, সার ও কীটনাশক ছিটানোয় ব্যস্ত সময় পার করছেন কিষান-কিষানিরা। তবে সেচের পানির তীব্র সংকট। প্রচণ্ড তাপে এবং দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় মাঠের ভেতরের খাল-বিল শুকিয়ে গেছে। অনেকে ছোট ছোট কুয়ো কেটে প্রথম দিকে সেখান থেকে সেচ দিয়েছেন। কিন্তু সে পানির আধারগুলোতেও এখন পানি শুকিয়ে গেছে। অনেক কৃষক দূরের নদী থেকে পাম্প ও পাইপের মাধ্যমে খেতে পানি দিচ্ছেন। সে নদীতেও পানি এক ফুটের নিচে।দাকোপ ইউনিয়নের কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামের স্বপন মণ্ডল বলেন, তিনি ১০ বিঘা জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন, কিন্তু পানি নেই। যদি বৃষ্টি হয়, তবে গাছ বাঁচবে। পাশের কাঁকড়াবুনিয়া, কালীতলা খালেও একদমই পানি নেই। কয়েক বছর ধরে খালগুলোতে চরা (অগভীর) পড়ে আছে। খনন করা হয় না। এলাকার প্রায় চার হাজার কৃষক পানি পাচ্ছেন না।কৈলাশ গঞ্জ গ্রামের নিরাপদ রপ্তান একটি মগে করে গাছে অল্প করে পানি দিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘৫ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। লাখ টাকার ওপর খরচ হয়ে গেছে। পানির অভাবে এর মধ্যেই গাছ লালচে হয়ে আসছে এবং গাছ মরা শুরু করেছে। খাল, মাঠ সব শুকনা। এবার এ এলাকায় প্রচুর পরিমাণে তরমুজ আবাদ হয়েছে। এ জন্য পানির সংকট আরও বেড়েছে।’এছাড়াও উপজেলার পানখালী, তিলডাঙ্গা, বাজুয়া এবং লাউডোব ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠগুলো যেখানে গত বছর তরমুজের সবুজে ভরে ছিল, সেখানে এবার অনেক জমি পড়ে আছে অনাবাদি অথবা চাষ করা হয়েছে বিকল্প ফসল। বারুইখালি এলাকার কৃষক প্রকাশ বাছাড় বলেন, গত বছর চার বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করে লস হয়েছে। এবছর আর সাহস পায়নি অন্যের জমিতে কাজ করছি। সেচের পানি সংকট, সার ও ওষুধের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে বাজারে সঠিক দাম না পেলে আমাদের মতো সাধারণ কৃষকদের টিকে থাকা কঠিন।চুনকুড়ি এলাকার কৃষক গোলক সরদার জানান, গত বছর ১৪ বিঘা তরমুজের চাষ করেছিলাম ৪ লাখ টাকার মত লস হয়েছিলো। ফলন ভালো না হওয়ায় বিক্রি করতে পারিনি অনেক ফল। এবছর কমিয়ে মাত্র ২ বিঘা জমিতে চাষ করেছি। যদি পরিবেশ অনুকূলে থাকে এবছর ভালো দামে বিক্রি হবে বলে আশাবাদী।এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার একাধিক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, সবচেয়ে বড় সমস্যা সেচ। দেখা যায়, মুহূর্তে পানির প্রয়োজন ক্ষেতে সেই সময় খাল-বিল শুকনা থাকে। চলতি বছর এরই মধ্যে পানির সংকট তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ খাল গুলোতে পানি শুকিয়ে আসছে। প্রতিবছর লোকসান হওয়ায় এই বছর সবাই চাষ কমিয়ে ফেলেছেন বলে দাবি তাদের।এ ব্যাপারে দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তন এবং পানির স্বল্পতা ও মাঠ পর্যায়ে স্থানীয় কিছু সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা কিছুটা বিমুখ হচ্ছেন। তবে আমরা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে তাদের পরামর্শ দিচ্ছি। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।তিনি আরো বলেন, ইতি মধ্যে উপজেলার বেশ কিছু খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে খাল গুলো খনন করা হলে পুনরায় কৃষকেদের সেচ সংকট নিরসন হবে।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT