খুলনা, বাংলাদেশ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  দুই কোটি টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় নাগরিক আটক
  ৯ মাসেই এক লাখ কোটি টাকার রেকর্ড রাজস্ব ঘাটতি
  পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ আজ
  একটি নারী আসন হারাচ্ছে জামায়াত-এনসিপি জোট
  নকলমুক্ত পরিবেশে রূপসার শিয়ালী কেন্দ্রে এসএসসির দ্বিতীয় দিনের পরীক্ষা সম্পন্ন
  যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে আট নারীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে ইরান
  পানামা খালে ব্যাপক জট, ৪০ লাখ ডলারে সিরিয়াল বিক্রি
  শুল্কমুক্ত নয় সরকারি গাড়ির কথা বলেছি
  ছাত্রদল নেতা অন্তর শ্রীপুরে পরীক্ষার্থীদের মাঝে কলম ও স্কেল বিতরণ অনুষ্ঠিত
  খুলনায় স্কুল ফিডিংয়ে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের অভিযোগ, ছত্রাকযুক্ত রুটি নিয়ে তদন্তে অনিয়মের সত্যতা

ভূমিকম্পে ঢাকার কোন এলাকাগুলো তুলনামূলক নিরাপদ?

[ccfic]

খুলনার সময়ের খবর ডেস্ক:

টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্টে যদি ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, তবে ঢাকার প্রায় ৪০ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে এবং প্রাণহানি হতে পারে দুই লাখেরও বেশি মানুষের। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রকাশিত সাম্প্রতিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে এমনই ভয়াবহ চিত্র। এ তথ্য প্রকাশের পর রাজধানীবাসীর মধ্যে আবারও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।প্রশ্ন উঠছে—ঢাকায় কি কোনো নিরাপদ এলাকা আছে?বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন কিছুটা সহায়ক হলেও অনিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মাণ, জলাশয় ভরাট ও অতিরিক্ত জনসংখ্যা শহরকে ভয়াবহ ঝুঁকিতে ফেলেছে। কোন এলাকা কতটা নিরাপদ তা বুঝতে হলে দুটি বিষয়ের দিকে নজর দিতে হবে—১. এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন২. এলাকার অবকাঠামোগত অবস্থান।ভূতত্ত্ববিদ সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের মতে, ঢাকার উত্তর অংশে মধুপুরের লাল মাটি রয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে শক্ত। তাই রমনা, মগবাজার, নিউমার্কেট, লালমাটিয়া, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, লালবাগ, মিরপুর, গুলশান, তেজগাঁওসহ লাল মাটির গঠনের এলাকাগুলো ভূতাত্ত্বিকভাবে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারেতবে শুধু মাটির গঠন দিয়ে ঝুঁকি নির্ধারণ করা যায় না বলে মনে করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী। তার মতে, ভবনগুলো সঠিকভাবে পরীক্ষা না করা হলে কোন এলাকা নিরাপদ বা অনিরাপদ তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।জলাশয় ভরাট করে গড়ে ওঠা আফতাবনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা নির্ভর করছে মাটি প্রস্তুতির ওপর। বিশেষজ্ঞরা জানান, এসব এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণের আগে ‘গ্রাউন্ড ইম্প্রুভমেন্ট টেকনিক’ প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক। মাটি যথাযথভাবে শক্ত না করলে ভূমিকম্পের সময় ভবন অতিরিক্ত দুলে ভেঙে পড়তে পারে।মেক্সিকোর সান হুয়ানিকো শহরের উদাহরণ টেনে আনসারী বলেন, সেখানে মাটি ঠিকভাবে প্রস্তুত না করার কারণেই ১৯৮৫ সালের ভূমিকম্পে ৭০ শতাংশ ভবন ধসে পড়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার মতো নরম মাটির এলাকায় শুধু পাইলিং করেই ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না—মাটিকেও যথাযথভাবে দৃঢ় করতে হবে। নইলে দূরের ভূমিকম্প হলেও মাটির কম্পন ও ভবনের কম্পন মিলিত হয়ে বড় ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি করে।সার্বিকভাবে, ঢাকার কিছু এলাকায় ভূতাত্ত্বিক সুবিধা থাকলেও ভবনের গুণগত মানই নিরাপত্তার মূল নির্ণায়ক। ভবন যাচাই ও সঠিক নির্মাণ ছাড়া রাজধানীর কোনো এলাকাকেই সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যাচ্ছে না।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT