খুলনা, বাংলাদেশ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ‎ডুমুরিয়ায় গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত
  চুকনগরে অসহনীয় যানজট নিরসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে সোচ্চার ‘নিরাপদ খুলনা চাই’
   দাকোপে আলোচিত মামলার আসামী গ্রেফতারের দাবীতে বিক্ষোভ ও স্বারকলিপি প্রদান
  ‎জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে এদেশ স্বাধীন হতো না,,,,,,,,, এমপি লবি
  নওগাঁর ধামইরহাটে পুকুরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা
  কেশবপুর থানা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি পরেশ  দেবনাথের জন্মদিনে শুভেচ্ছার জোয়ার
  খুলনায় ৩০ মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে জেলা পরিষদের সাইকেল বিতরণ
  পারমাণবিক ইস্যু নয়, যুদ্ধ বন্ধ করাই এখন অগ্রাধিকার : ইরান
  বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন
  চুয়াডাঙ্গায় ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের কামড়ে জামায়াত নেতার মৃত্যু

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধানের গোলা

[ccfic]

কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি, বিএম আলামিন ইসলাম

খুলনার কয়রা উপজেলায় গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু আর পুকুর ভরা মাছ’ গ্রাম নিয়ে প্রচলিত প্রবাদটি আজও মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়। কিন্তু গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেও এখন দেখা পাওয়া যায় না বাংলার ঐতিহ্য ধান, গমসহ ফসল সংরক্ষণের গোলার। মাঠের পর মাঠ ধানক্ষেত থাকলেও কয়রা উপজেলা প্রত্যন্ত অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকের বাড়িতে এখন নেই ধান, গম মজুত করে রাখার বাঁশ-বেত ও কাদা দিয়ে তৈরি গোলা ঘর। দেশের একেবারে দক্ষিণে খুলনার কয়রা উপজেলা এ জেলার বেশির ভাগ মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। একসময় এখানে সমাজের নেতৃত্ব নির্ভর করতে কার কয়টি ধানের গোলা আছে এই হিসাব ,

কন্যা পাত্রস্থ করতেও বর পক্ষের বাড়ি থেকে ধানের গোলার খবর নেওয়া হতো। যা এখন রূপকথা। গ্রামাঞ্চলে বাড়িতে বাড়িতে বাঁশ দিয়ে গোল আকৃতির তৈরি করা ধানের গোলা বসানো হতো উঁচুতে। গোলার মাথায় থাকত টিনের তৈরি পিরামিড আকৃতির টাওয়ারের মতো, যা দেখা যেত অনেক দূর থেকে। গোলা নির্মাণ করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় আগে দক্ষ শ্রমিক ছিল। এখন আর গোলা নির্মাণ শ্রমিকদের দেখা মেলে না।

পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা। কয়রায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামে-গঞ্জে দক্ষ কারিগরদের হাতে তৈরি বাঁশের ধানের গোলা একসময় গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও কালের বিবর্তনে তা বিলুপ্তির পথে। মানুষের জীবন-মানের পরিবর্তনের ফলে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে তাদের পারিবারিক ব্যবহার্য উপকরণে। ফলে ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ধানের গোলার জায়গা দখল করে নিয়েছে পাটের বস্তা আর টিন বা প্লাস্টিকের তৈরি ড্রাম। এগুলো তৈরি ঝামেলামুক্ত ও সহজে বাজারে পাওয়া যায় বলে মানুষ বাঁশের গোলার পরিবর্তে এসব আধুনিক উপকরণ ব্যবহারে দিন দিন অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশের গোলার কদর। গ্রামবাংলার বাঁশের গোলার চাহিদা কমে গেলেও কিছুটা ব্যতিক্রম কয়রা, উত্তর বেদকাশী আমাদি মহারাজপুর,বাগালি ,উপজেলার গ্রামের কিছু বাড়িতে দেখা গেছে ধানের গোলা। গ্রামের কৃষকরা বলছেন, তারা এখনো অনেকে গোলায় ধান রাখেন। আবার অনেকের গোলা পরিত্যক্ত। তবে তারা স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছেন।

কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের গৃহবধূ রুমি খাতুন জানান, আমাদের বাড়িতে একসময় ধানের গোলা ছিলো; এখন আর নেই। তবে আমার চাচার বাড়িতে এখনো একটি গোলাঘর রয়েছে। জেলার প্রবীণরা বলছেন, আগের দিনে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গোলা থাকতে এখন আর নেই। নাতি-নাতনিদের কাছে বললে তারা বিশ্বাসও করতে চায় না।

প্রবাদের সেই গোয়াল ভরা গরু আর পুকুর ভরা মাছ এখনো আছে। দেশের প্রতিটি কৃষক পরিবারে রয়েছে কমপক্ষে একটা, দুটি গরু, পুকুরও আছে অনেকের। শুধু কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে গ্রামীণ ঐতিহ্য ধানের গোলা

 

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT