
জি,এম,ফিরোজ, ডুমুরিয়া:-একই বটমূল, একই প্রাঙ্গণ—৪১ বছর ধরে এখানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্রীশ্রী শ্যামাপূজা। আর নতুন করে ২০২৫ সাল থেকে এই একই স্থানে শুরু হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার জামাত। ধর্মীয় আচার আলাদা হলেও সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সহযোগিতায় একাকার দুই সম্প্রদায়ের মানুষ। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর বাজারের বটমূল এখন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে হিন্দু-মুসলিমের সম্মিলিত সহযোগিতায় শাহপুর বাজারে শ্যামাপূজার আয়োজন হয়ে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সাল থেকে একই স্থানে মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদের জামাতের আয়োজন শুরু হয়। ফলে পূজা ও ঈদের মতো দুই সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আয়োজন একই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হওয়ার এক ব্যতিক্রমী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।শ্যামাপূজা কমিটির প্রচার সম্পাদক বাবু চিত্তরঞ্জন মণ্ডল বলেন, প্রায় ৪১ বছর ধরে শাহপুর বাজারে হিন্দু-মুসলিম সবার সহযোগিতায় শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০২৫ সাল থেকে মুসলিম ভাইয়েরাও একই স্থানে ঈদের জামাত আদায় করছেন। সবার সহযোগিতায় এ সম্প্রীতির ধারা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, আজ শ্যামাপূজা, আগামীকাল সোমবার মায়েদের আরতি প্রতিযোগিতা এবং মঙ্গলবার রাত ১০টায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালার আয়োজন করা হয়েছে। পূজা আয়োজনে প্রশাসনের সহযোগিতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।পূজা কমিটির সভাপতি নিতাই চন্দ্র দত্ত বলেন, প্রায় ৩৮ বছর ধরে তিনি শাহপুর বাজারে স্বর্ণ ব্যবসা করছেন। পাশাপাশি শ্যামাপূজাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে আসছেন। তিনি বলেন, ‘হিন্দু-মুসলিম আমরা ভাই ভাই। সবাই মিলেমিশে থাকি। একই বটমূলে আমাদের পূজা হয়, আবার মুসলিম ভাইয়েরা ঈদের জামাত আদায় করেন। এই সম্প্রীতি ও সহযোগিতা আগামীতেও বজায় রাখতে চাই।’সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার কর্মকার বলেন, প্রায় ৪১ বছর ধরে শাহপুর বাজারের বটমূলে শ্যামাপূজা হয়ে আসছে। হিন্দু-মুসলিম সবার সহযোগিতা ও অংশগ্রহণেই প্রতিবছর এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।শাহপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি এ কে এম জাফর ইকবাল বলেন, বাজার কমিটির পক্ষ থেকে শ্যামাপূজা আয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর লবিও পূজা কমিটিকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।ধর্মীয় ভিন্নতা নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক বন্ধনই যে সমাজকে এগিয়ে নিতে পারে, শাহপুর বাজারের বটমূল তারই বাস্তব উদাহরণ। ৪১ বছরের শ্যামাপূজার ঐতিহ্যের সঙ্গে ২০২৫ সালে যুক্ত হওয়া ঈদের জামাতের আয়োজন নতুন মাত্রা দিয়েছে এই সম্প্রীতির বন্ধনে। শাহপুরের এই দৃষ্টান্ত ছড়িয়ে পড়ুক দেশের সর্বত্র—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।।
