
ডুমুরিয়া,নিজস্ব প্রতিনিধি জি. এম. ফিরোজ
বন্যার পানি যেন বিলপাটেলাবাসীর জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে। অতিবৃষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় প্রতি বছরই ভোগান্তির শেষ নেই। এবার সেই দুর্ভোগ পৌঁছেছে মৃত্যুর পরও—বন্যাকবলিত ডুমুরিয়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের বিলপাটেলা গ্রামে স্বাভাবিকভাবে কবর দেওয়ার জায়গাটুকুও মিলছে না। ফলে ইট, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে গাঁথুনি তুলে উঁচু করে দাফন করতে হয়েছে ৯৫ বছর বয়সী আব্দুর রশিদ মোল্লাকে।বিলপাটেলা গ্রামের মৃত ধলু মোল্লার ছেলে আব্দুর রশিদ মোল্লা দীর্ঘদিন প্যারালাইসিসে ভুগছিলেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার সকাল ৯টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। কিন্তু স্বজনদের শোকের সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন দুশ্চিন্তা—বন্যার পানিতে ডুবে থাকা এলাকায় কোথায় হবে মরহুমের দাফন?স্থানীয়রা জানান, বন্যার কারণে কবর খনন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোমরসমান পানি, কোথাও নরম কাদামাটি। স্বাভাবিকভাবে কবর দেওয়ার সুযোগ না থাকায় শেষ পর্যন্ত ইটের সলিংয়ের ওপর ইট-বালু-সিমেন্টের গাঁথুনি করে জায়গাটি উঁচু করা হয়। সেই উঁচু স্থানেই সম্পন্ন করা হয় আব্দুর রশিদ মোল্লার দাফন।মৃত্যুর পর একজন মানুষের শেষ ঠিকানাও যদি পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে তৈরি করতে হয়—তাহলে প্রশ্ন উঠছে, বিলপাটেলাসহ আশপাশের বন্যাকবলিত মানুষের এই দুর্ভোগের অবসান কবে? বছরের পর বছর জলাবদ্ধতা, কৃষিজমি ও বসতবাড়িতে পানি, চলাচলে দুর্ভোগ—এবার দাফনকাজেও তৈরি হয়েছে চরম সংকট। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, বিলপাটেলাসহ বিস্তীর্ণ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে হামকুড়া নদী অথবা শোলমারি নদী খনন করে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, নদী-খাল খনন ও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা ছাড়া প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগ ফিরে আসবে।এলাকাবাসী খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর লবীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত নদী খনন, পানি নিষ্কাশন ও জোয়ার-ভাটা চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।মানুষের জীবন যখন পানির কাছে জিম্মি, তখন মৃত্যুর পরও যদি কবরের জন্য উঁচু মাটি খুঁজতে হয়—তবে বিলপাটেলাবাসীর প্রশ্ন একটাই, এই জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে তারা কবে মুক্তি পাবে?
