
মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম :
নিরাপত্তা কোথায়? দিনের পর দিন বয়স্ক মানুষ খুন হচ্ছে, আর খুলনা মহানগরী এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হচ্ছে। খালিশপুর থানাধীন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর পদ্মা রোডের “ডাক্তার বাড়ি” থেকে উদ্ধার হলো ৫৮ বছর বয়সী পারভীন আক্তারের রক্তাক্ত মরদেহ।গলা ও হাতে আঘাতের চিহ্ন, নাক-মুখ দিয়ে বের হওয়া রক্ত – সবকিছু চিৎকার করে বলছে এটা “স্বাভাবিক মৃত্যু” না, এটা ঠাণ্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড।নিহত পারভীন আক্তার ছিলেন ওই এলাকার বাসিন্দা সাঈদ আহমেদের স্ত্রী। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে তিনি বাসায় সম্পূর্ণ একা ছিলেন। সুযোগটাই নিলো খুনিরা। মঙ্গলবার ২৩ জুন দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে – এই ২ ঘণ্টার মধ্যে একটা জীবন শেষ করে দিলো জানোয়ারগুলো।বুধবার সকালে স্বজনরা সাড়া-শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন লাশ। ততক্ষণে সব শেষ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, পারভীন আক্তারের গলা ও হাতে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছে। এটা স্ট্রোক না, হার্ট অ্যাটাক না। এটা বর্বর হামলা। আরও ভয়ঙ্কর তথ্য – বাসা থেকে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার খোয়া গেছে। অর্থাৎ প্রথমে খুন, তারপর লুট। বয়সের কারণে প্রতিরোধ করতে পারেনি ৫৮ বছরের এক নারী। সেই দুর্বলতাকেই অস্ত্র বানালো অপরাধীরা।খালিশপুর থানার ওসি এস এম জাবীদ হাসান বলেন, “নিহত নারী রাতে বাসায় একাই ছিলেন। সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নাক-মুখে রক্তের চিহ্ন রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।ময়নাতদন্ত রিপোর্টের জন্য বসে থাকতে হবে? এলাকাবাসীর প্রশ্ন – গলায় আঘাত, হাতে আঘাত, নাক-মুখে রক্ত – এরপরও “প্রকৃত কারণ” জানতে ল্যাব লাগে? চোখের সামনে এত আলামত থাকার পরও যদি “রহস্যজনক” ট্যাগ লাগাতে হয়, তাহলে পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।৭ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ এখন আতঙ্কে। একা বাস করা বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা রাতে ঘুমাতে পারছেন না। দরজায় খিল দিয়েও শান্তি নাই। কারণ খুনিরা জানে, একা মানুষ = সহজ টার্গেট। পুলিশ বলেছে, ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। কিন্তু প্রশ্ন একটাই – ৫৩ দিন পর পুলিশের মেয়ে উদ্ধার হয়, আর এখানে ৫৮ বছরের মা মরে পড়ে থাকে। খুলনার আইনশৃঙ্খলা কোথায় যাচ্ছে?পারভীন আক্তারের খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মা-কে একা ঘরে গলা কাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে না হয়। খুলনাবাসী এখন জবাব চায় – আর কত লাশ পড়লে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে?
