
নিজস্ব প্রতিবেদক // নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে আধুনিক ছয়তলা ভবন, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষার্থী নেত্রী ফতেমা আক্তার মাহমুদা ইভা।নারায়ণগঞ্জে আইন কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন কলেজের শিক্ষার্থী ও জাতীয়তাবাদী আইন ছাত্র ফোরামের নেত্রী ফতেমা আক্তার মাহমুদা ইভা।সম্প্রতি দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ছয় বছর ধরে তিনি কলেজের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এই দীর্ঘ সময়ে কলেজের উন্নয়ন নিয়ে বহু আলোচনা হলেও বাস্তব অগ্রগতি খুবই সীমিত।তিনি কলেজটির জন্য একটি আধুনিক ও উন্নতমানের বহুতল ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এখন সময় এসেছে নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজকে একটি আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার।ফতেমা মাহমুদা ইভা বলেন, “নারায়ণগঞ্জ একটি ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এখানে অসংখ্য খ্যাতিমান আইনজীবী, সফল ব্যবসায়ী এবং শিল্পোদ্যোক্তা রয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, আমার দীর্ঘ ছয় বছরের অভিজ্ঞতায় আমি এমন কোনো বড় উদ্যোগ দেখিনি, যা সরাসরি নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। এই কলেজ থেকেই ভবিষ্যতের আইনজীবী, বিচারক ও সমাজের দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি হয়। তাই প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।”তিনি আরও বলেন, একটি জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেই জেলার পরিচয় বহন করে। নারায়ণগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় অবস্থিত আইন কলেজের অবকাঠামো আরও উন্নত ও যুগোপযোগী হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি গবেষণা, আইনি জ্ঞানচর্চা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সুবিধা নিশ্চিত করতে উন্নত ভবন, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, প্রযুক্তিনির্ভর শ্রেণিকক্ষ এবং সুন্দর পরিবেশ অপরিহার্য।ফতেমা মাহমুদা ইভার স্বপ্নের কলেজ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি চাই নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে একটি আধুনিক ছয়তলা ভবন নির্মাণ করা হোক। কলেজের চারপাশে থাকবে সবুজ বাগান, পর্যাপ্ত খোলা জায়গা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বসার মনোরম পরিবেশ। একটি বড় ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি থাকবে, যেখানে আইনবিষয়ক দেশি-বিদেশি বই ও গবেষণাসামগ্রী সংরক্ষিত থাকবে। শিক্ষার্থীদের জন্য কমনরুম, ডিজিটাল ক্লাসরুম, সেমিনার হল এবং প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।”তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন, তাহলে নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সংকট দূর হতে পারে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এবং আইন শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য কলেজটির প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।”একই সঙ্গে তিনি কলেজের উন্নয়ন কার্যক্রমে নিজের সম্পৃক্ততার আগ্রহও প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এই কলেজের সঙ্গে জড়িত। কলেজের উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের সমস্যা এবং সম্ভাবনা সম্পর্কে আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে উন্নয়নমূলক কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে সেখানে আমাকে দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হলে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করতে পারবো।”জাতীয়তাবাদী আইন ছাত্র ফোরামের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সংগঠনের শক্তি হলো ঐক্য। ব্যক্তিগত মতভেদ বা বিভক্তি ভুলে সবাইকে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করতে হবে। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।দীর্ঘদিনের ত্যাগ, পরিশ্রম এবং নিষ্ঠার যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংগঠনের জন্য যারা কঠিন সময়ে কাজ করেছেন, তাদের অবদান মূল্যায়ন করা হলে কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে।এদিকে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। আইন শিক্ষার প্রসার এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। একটি উন্নত ভবন, আধুনিক লাইব্রেরি, তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ কলেজটির শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করেন, কলেজের সার্বিক উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষার্থী, আইনজীবী, ব্যবসায়ী এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
