
এস মেহেদী হাসান, স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ, দলীয় নেতাকর্মীদের তৎপরতা এবং সাধারণ ভোটারদের নানা জল্পনা-কল্পনায় সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো ইউনিয়ন। চায়ের দোকান, হাট-বাজার, গ্রামীণ আড্ডা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ শাহিনুর রহমানের নাম তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আলোচনায় অন্যতম। দীর্ঘদিন ধরে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা, দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে তিনি সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মত রয়েছে।তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, দলীয়ভাবে যদি কর্মীবান্ধব নেতা শেখ শাহিনুর রহমানকে চেয়ারম্যান পদে সমর্থন দেওয়া হয়, তাহলে তিনি সাধারণ ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন পাবেন এবং নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা, নেতাকর্মীদের পাশে থাকা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তিনি গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।স্থানীয় একাধিক তৃণমূল নেতা, কর্মী ও সচেতন নাগরিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শেখ শাহিনুর রহমান রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি একজন ভদ্র, মার্জিত, মিষ্টভাষী ও মানবিক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক দুঃসময়ে তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি বিপদ-আপদে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ কারণেই তৃণমূল পর্যায়ে তিনি একজন কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।স্থানীয়দের মতে, তিনি শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত রয়েছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যায় মানুষের পাশে থাকার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন।সম্প্রতি এক বার্তায় শেখ শাহিনুর রহমান আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে ইউনিয়নবাসীর কাছে দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন। তিনি বলেন, “দলমত নির্বিশেষে আমি সকল মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন চাই। সত্যকে সত্য, মিথ্যাকে মিথ্যা, সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলুন। জনগণের সেবাই হবে আমার একমাত্র লক্ষ্য।”তিনি আরও বলেন, তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে খর্নিয়া ইউনিয়নের মানুষের সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার পিতা মরহুম শেখ আমজাদ হোসেন খর্নিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বড় ভাই মরহুম শেখ দিদারুল ইসলাম দিদার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তাদের আদর্শ অনুসরণ করেই তিনি জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান।নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন শেখ শাহিনুর রহমান। তিনি বলেন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, যুবসমাজের কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অসহায় মানুষের কল্যাণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবেন। পাশাপাশি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।এদিকে, নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ ও জনসম্পৃক্ততা দিন দিন বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় সিদ্ধান্ত, স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ এবং সাধারণ ভোটারদের আস্থাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে তফসিল ঘোষণার আগেই খর্নিয়া ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তাতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশের আভাস স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
