
মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম- স্টাফ রিপোর্টার// খুলনার রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. সজিব মোল্লা। তিনি ঘাটভোগ ইউনিয়ন বিএনপির ৩ নং যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ছিলেন।দলীয় সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় সজিব মোল্লা। বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকে তিনি ভূমিকা রেখেছেন।ওয়ার্ড মেম্বার থাকাকালে এলাকার রাস্তা সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সামাজিক সালিশে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করছেন ভোটাররা। সজিব মোল্লা ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে যুবদল হয়ে বিএনপির মূল সংগঠনে যুক্ত হন তিনি। বর্তমানে তিনি ঘাটভোগ ইউনিয়ন বিএনপির ৩ নং যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। ইউনিয়ন কমিটির পুনর্গঠন, ওয়ার্ড পর্যায়ে কর্মী সম্মেলন ও সদস্য সংগ্রহ অভিযানে তার সাংগঠনিক তৎপরতা রয়েছে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান।ঘাটভোগ ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সজিব মোল্লা মাঠের নেতা। দলের দুঃসময়ে তিনি কর্মীদের পাশে থেকেছেন। মামলা হামলার শিকার হয়েও রাজনীতি ছাড়েননি। তৃণমূলের সঙ্গে তার যোগাযোগ ভালো।২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪ নং ওয়ার্ড থেকে সদস্য নির্বাচিত হন সজিব মোল্লা। পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনকালে তিনি এলাকার বেশ কিছু উন্নয়ন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয়দের তথ্য মতে, তার সময়ে ঘাটভোগ-সড়কের একাংশ সংস্কার, শিয়ালী খালের ওপর কাঠের সেতু নির্মাণ ও ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়।৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল হামিদ বলেন, ‘সজিব ভাই মেম্বার থাকতে আমাদের ওয়ার্ডে সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার হয়েছে। বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতার কার্ড করতে তিনি নিজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন।তবে প্রতিপক্ষের কেউ কেউ বলছেন, দলীয় পরিচয়ের কারণে তিনি সব মহলের কাছে সমান গ্রহণযোগ্য নন। এ বিষয়ে সজিব মোল্লা বলেন, ‘আমি মেম্বার ছিলাম সব মানুষের। দলমত দেখে কাজ করিনি। চেয়ারম্যান হলেও সবার জন্য কাজ করব।আসন্ন ঘাটভোগ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে জানতে চাইলে সজিব মোল্লা বলেন, ‘দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং জনগণ পাশে থাকে, তাহলে আমি নির্বাচন করব। পদ নয়, মানুষের সেবা করাই আমার মূল লক্ষ্য।নির্বাচিত হলে কী কাজ করবেন, এমন প্রশ্নে তিনি কয়েকটি অগ্রাধিকার খাতের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিয়নের প্রধান সড়কগুলো সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা জোরদার এবং মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা তৈরি।তিনি বলেন, ‘ঘাটভোগ ইউনিয়ন কৃষিপ্রধান এলাকা। এখানকার কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান না। কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে সমবায় গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে। এছাড়া নদীভাঙন কবলিত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কাজ করব।শিয়ালী বাজারের ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘সজিব মোল্লা এলাকার ছেলে। বিপদে আপদে তাকে পাওয়া যায়। তিনি চেয়ারম্যান হলে উন্নয়ন হবে বলে মনে করি।অন্যদিকে কলেজ শিক্ষার্থী রুমানা আক্তার বলেন, ‘আমরা চাই একজন শিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্ব। যিনি নারী শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করবেন। সজিব ভাইয়ের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে।বিএনপি বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে আছে। তবে দলীয় নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন। ঘাটভোগ ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক নেতা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শেষ পর্যন্ত দলের সমর্থন কে পাবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।রূপসা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হুমায়ুন কবির শেখ বলেন, ‘তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে আমরা প্রার্থী চূড়ান্ত করব। যিনি জনপ্রিয় ও ক্লিন ইমেজের অধিকারী, তাকেই সমর্থন দেওয়া হবে। সজিব মোল্লা আমাদের পরীক্ষিত নেতা।
ঘাটভোগ ইউনিয়ন রূপসা উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। ভৈরব নদের তীরে অবস্থিত হওয়ায় প্রতি বছর নদীভাঙনের শিকার হয় এ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এখানকার প্রধান সমস্যা। রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ এখন আর শুধু জন্ম নিবন্ধন দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়। স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে চেয়ারম্যানকে উন্নয়ন পরিকল্পনা, বাজেট বাস্তবায়ন ও সেবা নিশ্চিত করতে হয়। যিনি জনসম্পৃক্ততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারবেন, তিনিই সফল হবেন।নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী জুন মাসে ঘাটভোগ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগ শুরু করেছেন। হাটবাজার, চায়ের দোকান ও মসজিদ মাদ্রাসায় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে।সজিব মোল্লা জানান, তিনি প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ করছেন। ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন এবং তাদের সমস্যার কথা শুনছেন। ‘মানুষ পরিবর্তন চায়। আমি তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে চাই’, বলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কে টিকে থাকেন এবং ঘাটভোগ ইউনিয়নবাসী কাকে চেয়ারম্যান হিসেবে বেছে নেন, সেটি জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
