খুলনা, বাংলাদেশ | ২২শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  খুলনায় এবার নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা-ভাঙচুর 
  মুকসুদপুরে ৭৮৫ পিস ইয়াবা ও ৩০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতা
  মুকসুদপুরে ৭৮৫ পিস ইয়াবা ও ৩০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতা
  সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর প্রধান জোনাব আলী গ্রেফতার
  তরিকুল হত্যা: মাদক ও ঘেরের চাঁদা নিয়ে বিরোধের সন্দেহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয়জনকে নেওয়ার তথ্য, হত্যাকারীদের এক সপ্তাহে গ্রেপ্তারের দাবি এমপির
  কেশবপুরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ এর শুভউদ্বোধন করা হয়েছে
  কেশবপুরের মঙ্গলকোট বাজার রংধনুএকাডেমিতে ফলদ গাছের চারা বিতরণ
  ঢাকার মহাসমাবেশে অংশ দিতে ঈদগাঁওর পাঁচ ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের যাত্রা
  ডুমুরিয়ায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত তরিকুলের শোকাহত পরিবারের পাশে রংপুর ও রঘুনাথপুরের দুই চেয়ারম্যান
  মাদক ও চুরি বিরোধী সুনামগঞ্জের তিনটি ইউনিয়নবাসির আয়োজনে প্রতিরোধমূলক সভা অনুষ্ঠিত

দাকোপ ব্রীজ-বাজুয়া ইউপি সড়ক সাত বছরেও শেষ হয়নি কাজ, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

[ccfic]

শচীন্দ্র নাথ মন্ডল , দাকোপ (খুলনা) প্রতি নিধি :-সাত বছর আগে সড়কে ইটের সোলিং ছিল। পিচঢালাই কাজের জন্য সেই ইট তুলে ফেলা হয়। সেভাবেই পড়ে থাকে কয়েক মাস। এরপর বালু ফেলে ইটের খোয়া বিছিয়ে আবারও ফেলে রাখা হয়েছে। ১১ মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সাত বছরেও সেই পিচঢালাই কাজ শেষ হয়নি। দাপ্তরিকভাবে কয়েক দফায় পত্র আর অনুরোধেও কাজের পাশে আসেনি ঠিকাদার।এমন চিত্র খুলনার দাকোপ উপজেলার সদর ইউপি কার্যালয় থেকে বাজুয়া ইউপি কার্যালয়ের সড়কে। কার্পেটিং ছাড়াই বছরের পর বছর সড়কটি ফেলে রাখায় যানবাহনের চাকায় ইট-বালু গুঁড়া হয়ে গেছে। যানবাহন চলাচলের সময় বা সামান্য বাতাসেও এসব ধুলা উড়ে ফসলি জমি, বাড়িঘর, গাছপালায় জমেছে লাল আস্তর। ভাঙা ও ধুলায় ভরা সড়কে পথচারীদের দুর্ভোগও সীমাহীন।উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, দাকোপ ব্রীজ এলাকা থেকে বাজুয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় পর্যন্ত ৮ দশমিক ১২৩ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৩ দশমিক ১২৩ কিলোমিটার সড়কের পিচঢালাই ও প্রশস্তকরণের কাজটি পেয়েছে মেসার্স জামেলা ট্রেডার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। খুলনা বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৪৪ লাখ ৩২ হাজার ৪৭৩ টাকা। কাজটি ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে শুরু করে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে না পেরে কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও গত সাত বছরে সড়কের কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার।স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ১৭টি গ্রামের ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষ নিয়মিত এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। এ ছাড়া সবজি ও মালামালবাহী পিকআপ গাড়ি ও ভ্যানগাড়িসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। সাত বছর আগে রাস্তার উন্নয়নকাজের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়। কিছুদিন কাজ করে কয়েক বছর ফেলে রাখছেন ঠিকাদার। বিষয়টি নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটিতে যানবাহন চলাচল করলেই ধুলাবালু উড়ে সড়ক অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। ধুলা বাতাসে উড়ে রাস্তার পাশের বাড়িঘর, গাছপালা, দোকানপাট, স্কুল, ফসলি জমি ও ঝোপঝাড়ের ওপর পড়ছে। সড়কের পাশের সবজির জমি, ঝোপঝাড় ও গাছপালার পাতায় লালচে আস্তরণ পড়েছে। এতে পাল্টে গেছে বাড়িঘর, দোকানপাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেয়ালের রং। ধুলা থেকে বাঁচতে কেউ কেউ পাইপ দিয়ে পানি ছিটাচ্ছেন।পশ্চিম বাজুয়া এলাকার বাসিন্দা মোকছেদ হাওলাদার বলেন, রাস্তায় যখন ইট ছিল, তখন ভালো ছিল। কাজ করার নামে সড়কের বারোটা বাজিয়ে রেখেছে। ইটের গুঁড়ার লাল ধুলায় সড়কের দুই পাশের জমির শাকসবজি নষ্ট হয়। ধুলার কারণে রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না। গাড়িতে উঠলে ঝাঁকুনিতে অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।বাজুয়া গ্রামের সড়কটির পাশেই বাড়ি রাসেল আহম্মেদের। সড়কের ধুলা উড়ে তার বাড়ির বেড়া ও টিনের চালে লাল আস্তর জমেছে। গতকাল পাম্পের পানি পাইপ দিয়ে ছিটিয়ে বাড়ি পরিষ্কার করছিলেন। ধুলা কমাতে রাস্তায়ও পানি ছিটাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ইটের গুঁড়ার লাল ধুলাবালুতে ঘরে থাকতে পারছি না। ঘরের খাবারদাবার, জামাকাপড়, আসবাবসহ সবকিছু ধুলাবালুতে নষ্ট হচ্ছে। শীতের মৌসুমে এই যন্ত্রণা আরও বেড়ে যায়। ঘরের সবার সর্দি-কাশি লেগেই আছে।কাজ ফেলে রাখার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. সাইদুর রহমান বলেন, করোনাকালীনে ফান্ডসহ অফিসিয়ালি কিছু ঝামেলা ছিল। এরপর নির্ধারিত দরের চেয়ে নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ায় টাকাপয়সার কিছু ঘাটতি থাকায় সড়কের কার্পেটিং কাজে বিলম্ব হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে বসে চূড়ান্ত করবেন বলে জানান তিনি।কাজ শেষ করতে নিয়মিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী এমরান আহম্মেদ খান। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, কয়েক দফায় ঠিকাদারকে চিঠি দেয়া ও কথা হয়েছে। চলতি মাসেন মধ্যেই তিনি কাজ শেষ করবেন, নয়তোবা কাজ বাতিল করা হবে। সবমিলে এই মাসেই একটা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ##শচীন্দ্র নাথ মন্ডলদাকোপ খুলনা তাং৭/১১/২৬

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT