খুলনা, বাংলাদেশ | ৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  দেয়াপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, সহকারী শিক্ষককে ঘিরে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরালের অভিযোগ।।
  যাদুকাটার বৌলাই নদীতে হাউসবোট থেকে এক শিশু নিখোঁজ
  বীরগঞ্জে ডেকোরেটর শ্রমিক ইউনিয়নের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত
  ঈদগাঁওতে ভাদ্র মাসের শুরুতে মাঠ মাঠে আমন ধান রোপনে মহাব্যস্ত কৃষকরা
  ধামইরহাটে শ্বাসরোধে হত্যা আগুনে পুডিয়ে দেওয়ার ২ জন গ্রেফতার
  রামুর ঈদগড়ে জেল থেকে বেরিয়ে ফের মাদক ব্যবসায় সক্রিয় ডজন মাদক ব্যবসায়ী, উদ্বেগে এলাকাবাসী
  বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন:
  দিনাজপুর বীরগঞ্জে বিপর্ণা নামীয় এক কিশোরীর রহস্য জনক ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
  জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক
  গোমস্তাপুরে ৭ লিটার চোলাইমদসহ নারী গ্রেফতার

ডুমুরিয়ায় ২১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৮টি বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে।

[ccfic]

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা:খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মোট ২১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৮টি বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে ৬২টি বিদ্যালয়ে সিনিয়র সহকারী শিক্ষকরা অনানুষ্ঠানিকভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে এবং ১৬টিতে শিক্ষা অফিসের অনুমোদনে চলতি দায়িত্বে প্রশাসনিক ও শিক্ষাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ডুমুরিয়ার ভারপ্রাপ্ত/চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের তালিকাস্কুলের নাম দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নাম বর্তমান স্থিতি ও প্রশাসনিক তথ্য লোহাইডাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্যাম সুন্দর হালদার, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক,চণ্ডীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়হেমলতা মন্ডল‌ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, শরাফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সিনিয়র সহকারী শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত)নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নেই; সহকারী শিক্ষক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।কুড়েঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পিন্টু সরদার (চলতি দায়িত্ব)নিয়মিত প্রধান শিক্ষক শূন্য থাকায় প্রশাসনিক দায়িত্বে আছেন।
সোনারতরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সুজিত ভদ্র
প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।বিশেষ নিউজ ও সাক্ষাৎকার: ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান
ডুমুরিয়া উপজেলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়মিত প্রধান শিক্ষক ছাড়া চলায় প্রশাসনিক কাজ ও শ্রেণিকক্ষের পাঠদান দুটোই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যে সকল সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে অফিসের খাতা-পত্র এবং প্রশাসনিক কাজেই সিংহভাগ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে তারা নিজেরাও ঠিকমতো ক্লাস নিতে পারছেন না।
সাক্ষাৎকার ১: অভিভাবকের ক্ষোভ আরিফা বেগম (অভিভাবক, শরাফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়):
“স্কুলে প্রধান শিক্ষক না থাকায় অন্য শিক্ষকেরা সঠিকভাবে সব ক্লাস সম্পন্ন করতে পারেন না। যে শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকেন, তাকে অফিসের কাজ আর মিটিং নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে বাচ্চারা সময়মতো ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করতে পারছে না। আমরা দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।”
ডুমুরিয়া উপজেলার ২১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৮টিতেই নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নেই। বিশাল এই শূন্যতার কারণে প্রাথমিক শিক্ষার দৈনন্দিন কার্যক্রমে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে?
শিক্ষা অফিসার: উপজেলার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকাটা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রধান শিক্ষক হলেন একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক চালিকাশক্তি। তিনি না থাকায় ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজ, মিটিং ও প্রশাসনিক ফাইল সামলাতেই সিংহভাগ সময় চলে যায়। এর ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না, যা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিখন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলছে।
অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন যে, শিক্ষকরা দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় বাচ্চাদের নিয়মিত ক্লাস সময়মতো সম্পন্ন হচ্ছে না। এ বিষয়ে আপনারা কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?
শিক্ষা অফিসার: অভিভাবকদের উদ্বেগটি একেবারেই যুক্তিসঙ্গত এবং আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। এই সংকট সামাল দিতে আমরা বিদ্যমান সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকেই জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্ব বণ্টন করেছি, যাতে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম থমকে না যায়। পাশাপাশি, রুটিন সমন্বয় করে যাতে কোনো শ্রেণিকক্ষ শিক্ষকশূন্য না থাকে, সে বিষয়ে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে ডুমুরিয়া উপজেলায় মোট শূন্যপদের সংখ্যা কত এবং এই সংকট নিরসনে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
শিক্ষা অফিসার: ডুমুরিয়ার ২১৪টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে মোট ১১৯টিরও বেশি পদ শূন্য রয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে সার্বিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে এবং শূন্যপদের বিস্তারিত তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি।স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে নতুন কোনো সুখবর আছে কি? সংকটটি কতদিনের মধ্যে কেটে যেতে পারে বলে আপনি আশা করছেন?শিক্ষা অফিসার: প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন মূলত দুটি উপায়ে হয়—সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতি এবং নতুন সরাসরি নিয়োগ। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এ বিষয়ে কাজ করছে। আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পদোন্নতি এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলেই আমরা স্থায়ী প্রধান শিক্ষক পাব। আমরা আশা করছি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুতই এই পদের বিপরীতে স্থায়ী শিক্ষক পদায়ন সম্ভব হবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাভাবিক গতি পুরোপুরি ফিরে আসবে।ডুমুরিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র:‌ডুমুরিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যানুযায়ী, উপজেলার ২১৪টি বিদ্যালয়ে প্রধান ও সহকারী শিক্ষক মিলে ১১৯টিরও বেশি পদ খালি রয়েছে। শূন্য পদ পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। পদোন্নতি এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক পদায়ন সম্ভব হবে।মূল সমস্যাসমূহ একক শিক্ষকের ওপর বাড়তি চাপ: ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হওয়ায় একটি করে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান বন্ধ থাকে।প্রশাসনিক তদারকির অভাব: নিয়মিত প্রধান শিক্ষক না থাকায় স্কুলের শৃঙ্খলা ও শিখন পদ্ধতির তদারকি দুর্বল হয়ে পড়ছে

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT