খুলনা, বাংলাদেশ | ২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ‎ডুমুরিয়ায় তিন বিলের পানি নিষ্কাশনে স্লুইস গেটের পলি অপসারণ স্বেচ্ছাশ্রমে
  কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত তরুণীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার
  মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণদের হাতে ফুটবল বিতরণ করলেন যুবনেতা শেখ হুমায়ূন কবির
  লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি সফল করতে নিরাপদ খুলনা চাই-এর প্রস্তুতি সভা
  অসুস্থ মায়ের সুস্থতা কামনায় সবার কাছে দোয়া চাইলেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহাগ
  ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের উন্নয়নের প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোল্লা আবরার হোসেন সৈকতের দোয়া ও সমর্থন কামনা
  ১১ বছরের পথচলায় খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: উৎসবের সঙ্গে নতুন স্বপ্নের অঙ্গীকার
  খর্নিয়া ইউপি নির্বাচন ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন, তৃণমূলের আলোচনায় বিএনপি নেতা শেখ শাহিনুর রহমান
  দাকোপে ৩ দিনের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন।
  ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় বি এনপি নেতা আবুল কাশেম

‘আমি আর কথা কমু না নে মা, আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি’

[ccfic]

ডেস্ক :

বড় ছাওয়াল গেছে সাত বছর হলো, মেজো ছাওয়াল গেছে দুই বছর। কোনোদিন ছুটিতে বাড়ি আসেনি। বলেছিল, মা কষ্ট করে খেয়ে দেনা শোধ করছি। বাড়ির কাজ শুরু করেছি, দেশে এসে বিল্ডিংয়ের কাজটা শেষ করব। কিন্তু আমার বাবার আর বাড়ি আসা হলো না। কী সর্বনাশ হয়ে গেল বাবা আমার।’ টিভিসাবস্ক্রিপশনসৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই ছেলেকে হারিয়ে এভাবেই বিলাপ করছিলেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের ময়না খাতুন। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে তাদের বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।এর আগে রোববার দুপুর ২টার দিকে রিয়াদের শিফা থানা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুন লাগে। এতে ময়না খাতুনের দুই ছেলে মোহন ও সুমন নিহত হন। একই ঘটনায় ওই গ্রামের আরও কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।ছেলেদের সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতি মনে করে ময়না খাতুন বলেন, আগের দিন সকালে মেজো ছেলের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। ছেলে তখন জানিয়েছিল, সে ভালো আছে এবং মাকে খাওয়া-দাওয়া করে সুস্থ থাকার কথা বলেছিল।কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ময়না খাতুন জানান, আগুন লাগার পর তার ছেলে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছিল। সেখানে সে মাকে উদ্দেশ করে জানায়, আগুনে পুড়ে যাচ্ছে এবং হয়তো আর কথা বলতে পারবে না। ছেলের সেই শেষ কণ্ঠস্বরের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।ময়না খাতুন বলেন, ‘হামার দুই বাবা হামার বুকে এনে দেও বাবা। আমার বাবাদেরকে দেখে আমি কলিজা শান্তি করমু। বড় কষ্টের ছাওয়াল, আমার দুই ধনক আমার বুকে এনে দে বাবা রে।’ছেলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও স্মরণ করেন তিনি। মায়ের ভাষ্য, মোহন বলেছিল দেশে ফিরে বিয়ে করবে। মাকে মেয়ের খোঁজ রাখতেও বলেছিল সে।এদিকে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।সৌদি আরবের রিয়াদের ওই অগ্নিকাণ্ডে আত্রাই উপজেলার নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের মৃত বাদলের ছেলে সুমন (৩৫) ও একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (২৭); কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের গাফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামাণিক; একই গ্রামের জান্নারের ছেলে রুবেল হোসেন (৩০) এবং ফজলুর প্রামাণিকের ছেলে কলি প্রামাণিক (৩৫); পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল (৩৮); বিশা গ্রামের আজহারের ছেলে সাগর (৩১) ও মজনুর ছেলে মজিদুল (৩৪); এবং উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে ফরিদ শেখ (৩২)।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT