খুলনা, বাংলাদেশ | ২৫শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ‎ডুমুরিয়ায় তিন বিলের পানি নিষ্কাশনে স্লুইস গেটের পলি অপসারণ স্বেচ্ছাশ্রমে
  কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত তরুণীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার
  মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণদের হাতে ফুটবল বিতরণ করলেন যুবনেতা শেখ হুমায়ূন কবির
  লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি সফল করতে নিরাপদ খুলনা চাই-এর প্রস্তুতি সভা
  অসুস্থ মায়ের সুস্থতা কামনায় সবার কাছে দোয়া চাইলেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহাগ
  ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের উন্নয়নের প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোল্লা আবরার হোসেন সৈকতের দোয়া ও সমর্থন কামনা
  ১১ বছরের পথচলায় খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: উৎসবের সঙ্গে নতুন স্বপ্নের অঙ্গীকার
  খর্নিয়া ইউপি নির্বাচন ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন, তৃণমূলের আলোচনায় বিএনপি নেতা শেখ শাহিনুর রহমান
  দাকোপে ৩ দিনের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন।
  ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় বি এনপি নেতা আবুল কাশেম

৫০০ টাকায় চুল বিক্রি, ২ সন্তান নিয়ে রেহানার আর্তনাদ

[ccfic]

মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম :

দারিদ্র্য কখনো কখনো মানুষকে এমন জায়গায় নিয়ে যায় যেখানে নিজের শরীরের শেষ সম্বলটুকুও বিক্রি করতে হয়। বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের রেহানা খাতুনের জীবন এখন তেমনই এক নির্মম গল্প।উল্লেখ্য “ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া জোগাড় করতে না পেরে একদিন নিজের মাথার লম্বা চুল কেটে বিক্রি করেছিলেন তিনি। আর এখন দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে তার বসবাস খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা আকাশের নিচে।স্থানীয়রা জানান, আগে রেহানা দুই সন্তানকে নিয়ে গ্রামের একটি ঝুপড়ি ঘরে ভাড়া থাকতেন। কিন্তু টানা ভাড়া বকেয়া পড়ায় একপর্যায়ে বাড়িওয়ালা তাকে বের করে দেন। নিরুপায় হয়ে তিনি আশ্রয় নেন রেললাইনের পাশের সরকারি জমিতে।মানবিক প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। খুলনা-মোংলা রেলব্রিজের পাশে বাঁশের খুঁটি পুঁতে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করে দেন তারা। কিন্তু অর্থের অভাবে কাঠামোতেই আটকে আছে সব। টিন নেই, বেড়া নেই। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই দিন কাটছে মা ও দুই সন্তানের।পাশের বাড়ির ফেরদৌসী বেগম বলেন, “একদিন দেখি রেহানার মাথায় চুল নেই। জিজ্ঞেস করতেই কাঁদতে কাঁদতে বলল, ৫০০ টাকা ঘরভাড়ার জন্য চুল বিক্রি করেছে। তবুও থাকতে পারেনি।স্থানীয় রহিম শেখ বলেন, “দুইটা বাচ্চা নিয়ে রেহানা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। আমরা চাই সরকার দ্রুত তার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করুক।মহিদুল ইসলাম জানান, “বাঁশের কাঠামো রেডি আছে। এখন শুধু কয়েকটা টিন আর বেড়া হলেই ওরা মাথা গুঁজতে পারবে। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে সম্ভব।সরেজমিনে দেখা যায়, সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের ধারে দাঁড়িয়ে আছে সেই অসম্পূর্ণ বাঁশের কাঠামো। তার নিচেই প্লাস্টিক বিছিয়ে ঘুমায় রেহানা ও তার দুই সন্তান।কান্নাভেজা কণ্ঠে রেহানা বলেন, ছেলেমেয়ে দুইটার মুখের দিকে তাকিয়ে সব সহ্য করি। খাওয়ার কষ্ট, থাকার কষ্ট। একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই চাই। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমাদের একটা ঘর দিন।এলাকাবাসীর দাবি, রেহানার মতো অসহায় পরিবার গুলোকে সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় এনে স্থায়ী ঠিকানার ব্যবস্থা করা হোক।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT