খুলনা, বাংলাদেশ | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ‎ডুমুরিয়ায় তিন বিলের পানি নিষ্কাশনে স্লুইস গেটের পলি অপসারণ স্বেচ্ছাশ্রমে
  কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত তরুণীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার
  মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণদের হাতে ফুটবল বিতরণ করলেন যুবনেতা শেখ হুমায়ূন কবির
  লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি সফল করতে নিরাপদ খুলনা চাই-এর প্রস্তুতি সভা
  অসুস্থ মায়ের সুস্থতা কামনায় সবার কাছে দোয়া চাইলেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহাগ
  ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের উন্নয়নের প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোল্লা আবরার হোসেন সৈকতের দোয়া ও সমর্থন কামনা
  ১১ বছরের পথচলায় খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: উৎসবের সঙ্গে নতুন স্বপ্নের অঙ্গীকার
  খর্নিয়া ইউপি নির্বাচন ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন, তৃণমূলের আলোচনায় বিএনপি নেতা শেখ শাহিনুর রহমান
  দাকোপে ৩ দিনের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন।
  ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় বি এনপি নেতা আবুল কাশেম

ঈদগাঁওয়ের গ্রামাঞ্চলে বড়পাতার সেই বটবৃক্ষ এখন শুধুই স্মৃতি

[ccfic]

এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও 

ঈদগাঁওয়ের গ্রামীন জনপদে আর দেখা মেলেনা পুরনো ও প্রাচীন বড়গাছ। এখন শুধুই স্মৃতির পাতায় বন্দি। এসব গাছ শুধু গাছই ছিলনা, ছিল গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই ছায়া ঢেকে রাখত বড় জায়গা। গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে যখন সূর্যের প্রখর তাপে মাটি যেন পুড়ে যেতো, তখন পথচারীসহ সব বয়সের মানুষ গাছের শীতল ছায়ায় আশ্রয় নিত কেউ বসে গল্প করত, কেউ আড্ডায় মেতে উঠতো আর শিশুরা হাসি-খেলায় মুখর করে তুলত চারপাশ। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই দৃশ্য অনেকটা হারিয়ে গেছে।জানা যায়, গ্রাম গাছের ছায়ায় মোড়ানো সবুজ এক দৃশ্য। গ্রামের প্রবেশমুখ,রাস্তার মোড়ে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে, পুকুরপাড়ে বা বিস্তীর্ণ ফসলি জমির মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতো আম,জাম,কাঁঠাল,বটসহ নানা জাতের গাছ গাছালি। এসব গাছপালা প্রকৃতির অংশ ছিলনা, ছিল গ্রামীণ জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। গাছের ছায়া ছিল আশ্রয়, ডালপালা ছিল খেলার অংশ। গ্রামের এই সোনালী অতীত স্মৃতি হারিয়ে এখন নব দিগন্তে পা দিয়েছে।দক্ষিণ চট্টলার বৃহৎ বানিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজারের মূল অংশেও ছিল একটি বিশাল বট গাছ। সেটি এখন আর নেই। ঈদগাঁও উপজেলা বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় কিছু কিছু স্থানেই মাঝারী আকারের গাছের দৃশ্য চোখে পড়ে। বড়পাতার সেই বটগাছ হারিয়ে যাচ্ছে পাড়া মহল্লা থেকেই।খুঁজলেও পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।বয়োবৃদ্ধ আহমদ হোসেন জানান, পথের ধারে থাকা পুরোনো বটগাছ ছিল এক প্রকার ছায়া। চলার পথে কোন পথচারী ক্লান্ত হলে সেখানে গাছের নিচে বিশ্রাম নিত। কৃষকেরাও কৃষি কাজের ফাঁকে গাছের ছায়ায় বসে মাথার ঘাম মুছতেনও শীতল বাতাসে কিছুটা স্বস্তি পেতো। এখন সেইসব দৃশ্যের দেখা মেলেনা। স্কুল জীবনের আবেগময় স্মৃতির কথা জানিয়ে আরেক প্রবীন জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে ও ছিল একসময় বড় বড় গাছ। ক্লাসের বিরতিতে ছাত্ররা শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে ছুটে যেত গাছের নিচে। কেউ দৌড়াতো, কেউ লুকোচুরি খেলতো, কেউ আবার গাছের ডালে উঠে দূরের মাঠ দেখতো। কেউ গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে স্বপ্ন দেখতো। গ্রীষ্মের দুপুরে যখন চারদিক উত্তপ্ত হয়ে উঠতো, তখন সে বড় গাছগুলো ছিল শান্তির আশ্রয়স্থল।এটি স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে রয়েছে শুধু স্মৃতি পাতায় প্রবীণ মুরব্বি আলম জানান, একসময়ে গ্রামের প্রবীণরা বড় গাছের ছায়ায় বসে গল্প-আড্ডা দিতো। গরমের দিনে এমন দৃশ্য অসাধারণ। এলাকার সে বড় গাছপালাগুলো আর নেই। সচেতন মহলের মতে, গাছ কাটা বা নষ্ট হওয়ার হার যেভাবে বেড়েছে, সেই তুলনায় নতুন করে গাছ রোপণের উদ্যোগ খুবই সীমিত। বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খোলা জায়গায় সরকার ও বিভিন্ন সংগঠন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। রাস্তার পাশে সারি সারি গাছ থাকলেও গরমের দিনে পথচারীরা কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি পান না। এসব গাছ বা অন্যান্য বৃহৎ গাছের বিকল্প হয়ে উঠতেই পারেনা।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT