
ডেস্ক :
খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ৬৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৯ জনই খুলনা জেলার। তবে এই সময়ে ডেঙ্গুতে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৮ জন। এ সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৮২১ জন।বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৮৫ জন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পরিচালক (স্বাস্থ্য) খুলনা বিভাগের কার্যালয় প্রকাশিত ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিষয়ক দৈনিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।খুলনা বিভাগ পরিচালক ( স্বাস্থ্য) ডা: শেখ মো: মোশাররফ হোসেন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলায় সর্বোচ্চ ২৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২৫ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৪ জন ভর্তি হন। চলতি বছরে জেলাটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪১২ জন। এর মধ্যে ৩৬৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বর্তমানে ৪৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে হাসপাতালটিতে মোট ৩৮৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩২৩ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন এবং বর্তমানে ৫৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ হাসপাতালে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।বাগেরহাট জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে জেলাটিতে মোট ৬৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা বিভাগের সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ৬০৭ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন,বর্তমানে ৪৯ জন ভর্তি রয়েছেন এবং এ পর্যন্ত ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।এছাড়া যশোরে নতুন ৪ জন, ঝিনাইদহে ৩ জন, মাগুরায় ২ জন, নড়াইলে ২ জন, কুষ্টিয়ায় ১ জন এবং মেহেরপুরে ২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।সাতক্ষীরা জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো রোগী ভর্তি না হলেও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গায় এদিন কোনো নতুন রোগী শনাক্ত বা ভর্তি হননি।স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ জন এবং বাগেরহাট জেলায় ১ জন মারা গেছেন।স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বাসাবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলের আশপাশে কোথাও যেন পরিষ্কার বা নোংরা পানি জমে না থাকে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
