
মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম :
খুলনার রূপসায় ছেলেকে মারধরের মামলা করায় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্টের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে জীবনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিচারের আশায় ভীত পরিবারটি ১৩ জুলাই পূর্ব রূপসায় সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী এম এম সুজাউদ্দিন ৫১ বলেন, তিনি খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের নৈহাটি শেখ বাড়ির মৃত উহাব আলী শেখের পুত্র। গত ৮ জুন ২০২৬ বিকাল ৪টায় তার ছেলে মো. রাসেদুল ইসলাম ওরফে সালভী ১৭ কে রূপসা উপজেলার ইলাইপুর ও নৈহাটি গ্রামের কয়েকজন সঙ্গবদ্ধ হয়ে উপর্যুপরি মারপিট করে মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত জখম করে।এতে আহত সালভীর মাথায় অপারেশন লাগে এবং ৩২টি সেলাই করতে হয়। মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের কারণে তার কথা বন্ধ হয়ে যায়। ছেলেকে মৃত্যুশয্যায় দেখে সুজাউদ্দিন আইনি বিচার পেতে ৯ জুন ২০২৬ তারিখে রূপসা থানায় মামলা করেন। মামলা নং-০৪, জি.আর-৮১/২০২৬।মামলা করার পর আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সুজাউদ্দিন বলেন, ২৭ জুন ২০২৬ তারিখে আসামিরা অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনসহ তার বাড়ির সামনে এসে মামলা তুলে নিতে নানা হুমকি-ধামকি ও জীবননাশের ভয় দেখায়। এ ঘটনায় তিনি ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ১০৭/১১৭ ধারায় আরেকটি মামলা করেন। মামলা নং-১৫৪/২০২৬ রূপসা।দুটি মামলা করায় আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়। ৩০ জুন ২০২৬ বিকাল ৫টার দিকে বিবাদী গং সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে তার বাড়ির সামনে এসে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তারা বলে, তোর এক ছেলেকে মাথা ফাটিয়ে জীবন শেষ করার চেষ্টা করেছি, আর তোকে সহ তোর পরিবারের সবাইকে জীবনের তরে শেষ করে দেবো। মামলা তুলে নিবি। তা না হলে তোদের জানে বাঁচতে দিব না।সুজাউদ্দিন বলেন, চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এলে তারা চলে যায়। এরপর থেকে তিনি ও পরিবারের সদস্যরা এবং মামলার সাক্ষীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জীবন বাঁচাতে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি একজন সাবেক সেনা সদস্য। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কলম সৈনিক ভাইদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে আমি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবো। আমার মতো ভুক্তভোগীর জীবনের নিশ্চয়তা দিতে প্রশাসন হস্তক্ষেপ গ্রহণ করবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।
