
এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও
ঈদগাঁওতে টানা সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টিপাতে পাড়া-মহল্লায় জলাবদ্ধতার কারনে পরিস্থিতি ভাল নেই। বাজারে ড্রেন পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ফলে জমে থাকা পানি থেকে মুক্তি পেয়েছে ব্যবসায়ী ও বাজারে নানা কাজেকর্মে আগত নারী-পুরুষসহ যানবাহন চালকরা।সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদগাঁও বাজারের হাসপাতাল সড়ক, পাইপ বাজার,ডিসি সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ময়লায় জমে থাকা ড্রেন পরিস্কার কার্যক্রমে চলছে। স্থানীয় দোকানদারেরা ড্রেনে দোকানের ময়লা আবজনা ফেলে ভরাট করে ফেলায় টানা বৃষ্টির পানি সুষ্ঠুভাবে চলাচল করতে পারেনি। যার ফলে সপ্তাহ ধরে প্লাবিত অবস্থায় ব্যবসা বানিজ্যসহ নিদারুন কষ্ট পেয়েছে পথচারী, যানবাহন চালকসহ নানান শ্রেনী পেশার মানুষ।আরো দেখা যায়, ঈদগাঁও বাজারের ড্রেন সংস্কার কাজ করে যাচ্ছেন একদল যুবক। তারা ড্রেনের স্লাব তুলে ভেতরে ময়লা আবজনা পরিস্কারের ফলে জমে থাকা পানি নেমে যাচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতাল সড়কের পাশ্ববর্তী পাবলিক লাইব্রেরির সামনে দিয়ে বৃষ্টির পানি চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ায় বাজারের বিভিন্ন স্থান থেকে পানি কমছে।এদিকে ঈদগাঁও ইউনিয়নের বৃহত্তর মাইজ পাড়ায় খালের পাশ্ববর্তী বসতবাড়ীতে টানা বৃষ্টিপাতের সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বাড়ীর উঠানসহ চলাচল সড়ক দিয়ে যাতায়াত অনেকটা দায় হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি কম হলে জমে থাকা পানি অনেকটা নেমে যায়, বৃষ্টি হলেই ফের বাড়তে থাকে। এমন অবস্থায় রয়েছেন এলাকার লোকজন। নানা স্থানে ভরাট করায় ভরাখাল দিয়ে পানি চলাচল করতে না পারায় প্রতি বর্ষামৌসুমে খাল পাড়ের লোকজনদেরকে মরণ দশায় ভোগতে হয়।স্থানীয় নুরুল কবির জানান, দীর্ঘকাল ধরে খালটি পূর্ণ খনন না করার ফলে পানির সাথে বন্দি থাকতে একাংশের লোকজনকে। খাল খনন না করলে দু:খ দূর্দশা থেকে মুক্তি পাবেনা এলাকার মানুষ। পানি চলাচলের স্বার্থে ভরাট খাল খননের দাবী। জালালাবাদের হিন্দুপাড়া ও ছাতিপাড়া এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতে কোমর সমান পানিতে নিমজ্জিত ছিল একাধিক পরিবার। পাশাপাশি ছাতিপাড়া সড়কে ঈদগাঁও নদীর পাশঘেষে পানির ধাক্কায় চলাচল রাস্তা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থায়ী টেকসই বেড়ীবাঁধের দাবীও জানিয়েছেন এমইউপি। এটি ভেঙে গেলে স্থানীয় এলাকাসহ মাইজ পাড়া,ইদ্রিসপুর ও বৃহৎ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশংকাও প্রকাশ করেন। অপরদিকে ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবা কেন্দ্র ও পুরাতন ভবনে তিনদিন ধরে হাঁটু পরিমান পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিষদের নৈশপ্রহরী শামসুল আলম।কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল নিজ উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ছাতিপাড়া সড়কের ঝুঁকি পয়েন্ট ও হাসপাতার সড়ক পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস্থ করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছিল। বিশেষ করে হাসপাতালগামী রোগী, পথচারীও চাল বাজারের ব্যবসায়ীরা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। সেই নির্দেশনার আলোকে জরুরি ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে সড়কটি থেকে পানি সরে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। জনদুর্ভোগ নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্যের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও বাজারবাসী।ঈদগাঁও বাজার ব্যবসায়ী সিরাজুল হক জানান, স্থানীয় এমপি লুৎফুর রহমান কাজল বাজার পরিদর্শন শেষে জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণে সড়কে জমে থাকা পানি থেকে মুক্তি পেল বাজারে আগত লোকজন।ঈদগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরী বলেন, বাজারের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ দখল হয়ে যাওয়ায় ভারী বৃষ্টিতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান কামাল হোসেন জানান, সাংসাদ লুৎফুর রহমান কাজলের নিদর্শনায় ড্রেন সংস্কারের মাধ্যমে বাজার এলাকায় জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেল। সে সাথে ইউনিয়নের হিন্দু পাড়া ও ছাতি পাড়া গ্রামে পানি থেকে রক্ষাকল্পে সুইচ গেইট বন্ধের প্রক্রিয়াও চলছে।
