খুলনা, বাংলাদেশ | ১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় বি এনপি নেতা আবুল কাশেম
  ‎ডুমুরিয়ায় ভদ্রানদী খননের মাটি বিক্রি সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয়, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিদ্ধ জনগণ
  উখিয়ায় ইয়াবাসহ ৪ ভাই-বোন আটক
  দাকোপ উপজেলা নবগঠিত যাত্রা শিল্পী পরিষদের পরিচিতি সভা
  ডুমুরিয়ায় সরকারি রাস্তা দখল করে ভাড়াটিয়া দোকানদারদের পসরা: চরম ভোগান্তিতে চালক ও সাধারণ মানুষ
  তেরখাদায় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে এমপি হেলাল, আবনালী বিলে পোনা অবমুক্ত
  খুলনায় ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ আরেকটি ‘অনিবার্য বিপ্লবের’ প্রস্তুতি নিন —–ডা. শফিকুর রহমান
  আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের পাশে সরকার, ডুমুরিয়ায় জিআর চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ
  যশোরের কেশবপুর-বেতগ্রাম সড়কের বেহাল দশা, দ্রুত সংস্কারের জোর দাবী
  কেশবপুর থানা প্রেসক্লাবের মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

অভয়াশ্রমের সুফল: ডুমুরিয়ায় মরা ভদ্রা নদীতে মিলছে বড় সাইজের মাছ

[ccfic]

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়নের বানিয়াখালী মৎস্য অভয়াশ্রম সংলগ্ন মরা ভদ্রা নদীতে এখন প্রায়শই বড় সাইজের কার্প ও দেশীয় মাছ পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের মৎস্য অভয়াশ্রম রক্ষা এবং নিয়মিত পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচির সুফল সরাসরি পেতে শুরু করেছেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও জেলেরা। দীর্ঘদিন পর নদীতে এমন বড় আকারের মাছের দেখা মেলায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে। মাছটি ধরেছেন গজেন্দ্রপুরের হান্নান গাজী।স্থানীয় সূত্র জানায়, এক সময়ের প্রমত্তা ভদ্রা নদী কালক্রমে ভরাট হয়ে ‘মরা ভদ্রা’য় পরিণত হলেও বানিয়াখালী এলাকায় মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করায় চিত্র বদলে গেছে। অভয়াশ্রমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকা এবং নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি হওয়ায় চারপাশের উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের বংশবৃদ্ধি ঘটেছে বহুগুণ। রুই, কাতলা, মৃগেল, আইড়, চিতলসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির বড় বড় মাছ এখন ধরা পড়ছে স্থানীয় জেলেদের জালে। এতে স্থানীয়দের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরছে।এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন:”বানিয়াখালী মৎস্য অভয়াশ্রমটি আমরা কঠোর নজরদারিতে রেখেছি। নিয়মিত পোনা অবমুক্তকরণ এবং অভয়াশ্রমের সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণেই আজ মরা ভদ্রা নদীতে কার্প ও দেশীয় প্রজাতির মাছের এত চমৎকার প্রাচুর্য দেখা যাচ্ছে। মা মাছ রক্ষা ও পোনা নিধন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় জনগণ সচেতন হওয়ায় এই উদ্যোগ পুরোপুরি সফল হয়েছে।”এ প্রসঙ্গে খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান বলেন:”ডুমুরিয়ার বানিয়াখালীর এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করলে মরা বা বদ্ধপ্রায় জলাশয় থেকেও বিপুল পরিমাণ মৎস্য উৎপাদন সম্ভব। আমরা পুরো জেলা জুড়েই প্রাকৃতিক জলাশয় সংস্কার এবং অভয়াশ্রমের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি, যাতে দেশীয় মাছের বিলুপ্তি রোধ করা যায় এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারে।”স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মান্নান গাজী ও রহিমা বেগম জানান, কয়েক বছর আগেও এই নদীতে আশানুরূপ মাছ পাওয়া যেত না। কিন্তু অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছরই মাছের আকার ও সংখ্যা বাড়ছে। পরিবেশবিদদের মতে, বানিয়াখালী অভয়াশ্রমটি শুধু মাছের উৎপাদনই বাড়ায়নি, বরং মরা ভদ্রা নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও এক অনন্য ভূমিকা পালন করছে।এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার বলেন:”বানিয়াখালী মৎস্য অভয়াশ্রমটি ডুমুরিয়ার মৎস্য সম্পদ রক্ষায় একটি রোল মডেল। নদী ও অভয়াশ্রমের সুরক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সবসময় মৎস্য বিভাগকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ সময়ে যেন কেউ অভয়াশ্রমে মাছ ধরতে না পারে, সেজন্য আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই ধারা বজায় রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পেতে পারেন।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT