
মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম :
পারিবারিক বিরোধের আগুনে পুড়ে টানা অনশনে বসেছিলেন খুলনা নগরীর মলি মল্লিক। খাওয়া নেই, ঘুম নেই। একটাই দাবি, সমাধান। অবশেষে প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে ভাঙলো সেই অনশন। গত শুক্রবার ২৬ জুন দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিট। দীর্ঘ সময় পর এক গ্লাস পানি মুখে তুলে নেন মলি। সাথে ছিল প্রশাসনের লিখিত আশ্বাস,সোমবার বসবে বৈঠক।তথ্য সুত্রে জানা গেছে, স্বামী ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস ও তার পরিবারের সঙ্গে বিরোধের জেরেই এই চরম সিদ্ধান্ত নেন মলি। অভিযোগ, সংসার করতে চাইলেও স্বামীপক্ষ তাকে গ্রহণ করতে নারাজ। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে নগরীর রাস্তায় নেমে আসেন তিনি।পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখে মাঠে নামে হরিণটানা থানা প্রশাসন। সাথে ছিলেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। দীর্ঘ আলোচনার পর দুই পক্ষকে মুখোমুখি বসানোর সিদ্ধান্ত হয়।প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী সোমবার, বিকাল ৫টা-স্থান. হরিণটানা থানাধীন আ. হান্নান সড়ক, স্বামী ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাসের বাড়ির সামনে।সেখানেই সমাজের মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের কথা শোনা হবে। তারপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা সরাসরি বলেন, মেয়েটি সংসার করতে আগ্রহী। কিন্তু স্বামী ও তার পরিবার তাকে নিয়ে সংসার করতে অনিচ্ছুক। যেহেতু আইনি জটিলতার চেয়ে সামাজিক সমাধান জরুরি, তাই এই উদ্যোগ। সমাজের প্রতিনিধিরা যে রায় দেবেন, দুই পক্ষকেই তা মানতে হবে।প্রশাসনের এই নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই অনশন ভাঙেন মলি মল্লিক। এরপর পরিবারের সাথে নিজ বাড়িতে ফিরে যান তিনি। স্থানীয়দের চোখ এখন সোমবারের সালিশ বৈঠকের দিকে। তাদের আশা, মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে দীর্ঘ দিনের এই পারিবারিক টানা পোড়েনের একটি গ্রহণযোগ্য ও মানবিক সমাধান মিলবে।মলির এই অনশন ভাঙা মানে লড়াই শেষ নয়। বরং লড়াইটা এখন টেবিলে, রাস্তায় নয়।
