খুলনা, বাংলাদেশ | ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  উখিয়ায় ইয়াবাসহ ৪ ভাই-বোন আটক
  দাকোপ উপজেলা নবগঠিত যাত্রা শিল্পী পরিষদের পরিচিতি সভা
  ডুমুরিয়ায় সরকারি রাস্তা দখল করে ভাড়াটিয়া দোকানদারদের পসরা: চরম ভোগান্তিতে চালক ও সাধারণ মানুষ
  তেরখাদায় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে এমপি হেলাল, আবনালী বিলে পোনা অবমুক্ত
  খুলনায় ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ আরেকটি ‘অনিবার্য বিপ্লবের’ প্রস্তুতি নিন —–ডা. শফিকুর রহমান
  আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের পাশে সরকার, ডুমুরিয়ায় জিআর চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ
  যশোরের কেশবপুর-বেতগ্রাম সড়কের বেহাল দশা, দ্রুত সংস্কারের জোর দাবী
  কেশবপুর থানা প্রেসক্লাবের মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
  কক্সবাজার স্টুডেন্ট ফোরাম, রাজশাহীর নতুন কমিটি অনুমোদন
  জালালাবাদে ক্ষুদে ফুটবলার নয়ন ঢাকা ফুটবল লীগে সুযোগ পেল

চারটি লাশের সামনে দাঁড়িয়ে সিফাতের আর্তনাদ—‘আমি এখন কার জন্য বাঁচব?’

[ccfic]

ডেস্ক :

এক সকালেই পৃথিবীটা থেমে গেল ১৮ বছরের জুনায়েদ ইসলাম সিফাতের জন্য। সকালে কাজে বের হওয়ার সময়ও তিনি জানতেন না, কয়েক ঘণ্টা পর ফিরে এসে তাকে দেখতে হবে মা আর তিন বোনের রক্তাক্ত নিথর দেহ। যে ঘরে প্রতিদিন মায়ের ডাক, বোনদের হাসি আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন ছিল, সেই ঘর এখন শুধু নীরবতা আর কান্নার সাক্ষী।২০১৯ সালে বৃষ্টিভেজা একদিন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান সিফাতের বাবা কামাল হোসেন। হাড়ি-পাতিল ও সিলভার সামগ্রী ফেরি করে সংসার চালাতেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর ভেঙে পড়েছিল পরিবারটি। কিন্তু হাল ছাড়েননি মা শাহিনুর বেগম। তিন মেয়েকে আর একমাত্র ছেলেকে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়েই প্রতিদিন সংগ্রাম করেছেন। অভাবের সংসারে সন্তানদের পড়ালেখা থামতে দেননি। বড় দুই সন্তানও ছোটখাটো কাজ করে মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিল।সব কষ্টের মধ্যেও পরিবারটি নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে সেই স্বপ্ন রক্তে ভেসে গেল। ঘাতকের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান সিফাতের মা শাহিনুর বেগম (৩৮), বড় বোন সায়মা আক্তার (২১), মেজো বোন ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট বোন শিফা আক্তার (৯)। পরে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে নিহত হন অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার (২৮)।লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি শিক্ষার্থী সিফাত এখন একেবারেই নিঃস্ব। বাবা নেই, মা নেই, নেই তিন বোন। চোখের সামনে পুরো পরিবার হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছে সে।হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে সিফাত শুধু একটি প্রশ্নই করে, ‘আমার মা, বোনদের কী অপরাধ? কোন অপরাধে তাদেরকে এভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি এখন কার জন্য বেঁচে থাকবো। দুনিয়াতে আমার কেউ নেই।সিফাতের বন্ধু ওমর ফারুক রনি বলেন, সিফাতরা ভাই-বোন সবাই খুব মেধাবী। লেখাপড়ার প্রতি তাদের অনেক আগ্রহ ছিল। বাবা হাড়খাটুঁনি পরিশ্রম করতো, শেষ তো বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেছে। কুমিল্লায়ও তাদের আপন বলতে কেউ নেই। পরিবারটি এখন শেষ হয়ে গেছে।রায়পুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, সিফাত আমাদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। ৮ হাজার টাকা বেতনে সে ৭-৮ মাস আগে যোগ দেয়। সকালে সে কাজে বাসা থেকে বের হয়। সবার সহযোগিতা নিয়ে লেখাপড়াসহ পরিবারটি ভালোভাবেই চলছিল। তার পরিবারের সদস্যদের এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।এদিকে দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি প্রত্যক্ষদর্শী, ভাড়াটিয়াসহ আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকবছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে দেনায়েতপুর এলাকায় ডাকাতিয়া নদীরপাড়ে ভাড়া বাসায় থাকেন। ২০১৯ সালে তার স্বামী হকার মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর ওই বাসায় বসবাস করে আসছেন।সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ঘাতক অন্ততকে গণপিটুনি দেয়।বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলার পর লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক জানান, ঘাতক অন্তর তার স্ত্রীসহ প্রায় দেড় বছর ঘটনাস্থলে বাসা ভাড়া থাকতেন। প্রায় ৭-৮ মাস আগে সে বাসা ছেড়ে চলে যায়। হয়তো পূর্ব পরিচিত হওয়ায় সকালে অন্তর এ বাসায় আসে। এরপর সে ঘটনাটি ঘটায়। রাণী নামে এক প্রতিবেশী অন্তরকে ওই বাসায় দেখে এখানে আসার কারণ জানতে চায়, তখন অন্তর বলে সে পানির পাইপ ঠিক করতে এসেছে। রাণী এটা বিশ্বাস না করে কলাপসিবল গেট আটকে দিয়ে স্থানীয়দের খবর দেয়। তিনি পদক্ষেপটি না নিলে ঘটনাটি হয়তো উদ্‌ঘাটন হতো না।

 

 

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT